দেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এখনও অবহেলিত। রোগের বিষয়ে চিকিৎসা গ্রহণে রয়েছে ভ্রান্ত ধারণা। সচেতনতার অভাবে রোগীরা অপচিকিৎসা নিয়ে থাকে। ফলে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারা দেশে জরিপ ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এসব কাজে সরকারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি দাতাদের আরও একগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টারে ট্রান্সফর্ম বাংলাদেশের বস্তিবাসীদের বিজ্ঞানভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ৪ বছরের গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (জনস্বাস্থ্য অধিশাখা) যুগ্মসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী বলেন, দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এখনও অবহেলিত। মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে তেমন সচেতনতা নেই। অসুস্থ হলে তারা জ্বনে ধরেছে কিংবা বান মারা হয়েছে ভেবে ঝাড়ফু করে থাকেন। প্রকৃত চিকিৎসার অভাবে মানসিক রোগীদের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে যায়। দেশে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রকৃত চিত্র জানতে এবং অধিকাংশ রোগীকে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসতে সারা দেশে রোগের ধরণ, রোগীদের অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে মাঠ জরিপ ও সচেতনতা নিয়ে কাজ করা দরকার। এসব কাজ সরকারের পক্ষে একা করা দূরহ বিষয়। তাই সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের অনুরোধ করবো মানসিক স্বাস্থ্যের প্রকৃত চিত্র তুলে আনতে এমন প্রকল্প আরও বেশি করে বাস্তবায়ন করুন। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে দেশি-বিদেশি সংস্থার সাথে সরকার কাজ করবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (বিশ্বস্বাস্থ্য অধিশাখা) যুগ্মসচিব মো. মামুনুর রশীদ বলেন, দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এখন অনেক বিস্তৃত। কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন সাব সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে দেশের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রকৃত অবস্থা নিরুপন, রোগী ও তাদের পরিবারকে সচেতনতা গড়ে তুলতে মাঠ জরিপ প্রকল্পকে যুক্ত করা সম্ভব হলে সার দেশের রোগীরা উপকৃত হবে। ভুল চিকিৎসার আওতা থেকে মুক্ত থাকবে। কোথায় মানসিক সমস্যার চিকিৎসা পাওয়া যায় সে বিষয়ে মানুষ সচেতন হবে।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনআইএইচআরের অর্থায়নে পরিচালিত চার বছর মেয়াদি ‘ট্রান্সফর্মিং একসেস টু কেয়ার ফর সিরিয়াস মেন্টাল ডিজঅর্ডারস ইন স্লাম’ (ট্রান্সফর্ম) প্রকল্পের ফলাফল প্রকাশের ২৬ ও ২৭ জানুয়ারির অনুষ্ঠানে গবেষণার বিভিন্ন ধাপ ও পদ্ধতি, গবেষণার ফল এবং জাতীয় ক্ষেত্রে কীভাবে গবেষণাটি সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের বাংলাদেশের প্রধান গবেষক ডা. তানজির রশিদ সরণ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের কমিউনিটি ও সোশাল সাইকিয়াট্রি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফারজানা দিনা, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চাইল্ড এন্ড এডলোসেন্ট সাইকিয়াট্রির অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবীন মোরশেদ, হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ডা. খালেকুজ্জামান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্লানিং এন্ড রিসার্চ ডিভিশনের এসিট্যান্ট ডিরেক্টর ডা. নাজমা আক্তার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশনের সদস্য মহাসচিব অধ্যাপক ডা. নিজাম উদ্দিন।
আয়োজকরা জানান, দুইদিনের আয়োজনে আরও ছিলেন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি, কড়াইল বস্তি এলাকার প্রথাগত চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট কবিরাজ, ওষুধ বিক্রেতা এবং কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার।
কর্মশালায় প্রকল্পের তরুণ গবেষকদের উপস্থাপনা, প্যানেল ডিসকাশন, প্লেনারি সেশন এবং কড়াইলের বস্তির মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণা সংশ্লিষ্টরা তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
