শরীয়তপুরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর পাইলট মোড়ে বিএনপি ও জামায়েত ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ দুটি মামলা দায়ের করেছেন। জামায়েত ইসলামীর নড়িয়া উপজেলা পশ্চিমের আমীর নজরুল ইসলাম ও নড়িয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি ফজলুল ওয়াহেদ খান ওরফে নিক্সন মামলা দুটির বাদী হয়েছেন। 

জামায়েত ইসলামীর মামলায় বিএনপির ১৮ নেতা-কর্মীকে ও বিএনপির মামলায় জামায়েত ইসলামীর ২৯ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া দুই পক্ষ আরও দুটি মামলার আবেদন করেছেন। পুলিশ এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেননি। সংঘর্ষের পর শরীয়তপুর- ২ নির্বাচনী এলাকায় দল দুটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই দলের নেতা-কর্মীরা জেলা শহরে, নড়িয়া উপজেলা সদরে, ভোজেশ্বর বাজারে ও সখিপুর থানা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন জেলা শহরের জামায়েত ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। 

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিএনপির প্রার্থী সফিকুর রহমান কিরন নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও জেলা সদর হাসপাতালে আহত বিএনপি ও জামায়েত ইসলামীর নেতা-কর্মীদের দেখতে আসেন। এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেনও হাসপাতালে আহত জামায়েত ইসলামীর নেতা-কর্মীদের দেখতে আসেন।

নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর-২ আসনে (নড়িয়া-সখিপুর) বিএনপি ও জামায়েত ইসলামীসহ ৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী সফিকুর রহমান কিরন ও জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর-নড়িয়া সড়কে ভোজেশ্বর পাইলট মোড় এলাকায় ওই দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় দুই পক্ষের ১১ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় আহত জামায়েত কর্মীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ ওঠে বিএনপির সমর্থকরা সেখানে গিয়ে সন্ধ্যায় জামায়েত ইসলামীর কর্মীদের মারধর করেছেন। ওই ঘটনায় জামায়েত ইসলামী ও বিএনপির পক্ষে নড়িয়া থানায় দুটি মামলার আবেদন করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার রাতে শরীয়তপুর জামায়েত ইসলামীর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে। সেটার জন্য না হয় ফেসবুকেই প্রতিবাদ করুক। না হয় যিনি দিয়েছেন তাকে জিজ্ঞাসা করুন। সেটার জন্য নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হবে কেন? আমাদের ৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে দেখতে গেলে সেখানেও আমাদের নেতাদের মারধর করা হয়েছে। আমরা একটি ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। আমাদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। অফিসে তালা দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে জানাচ্ছি, কিন্তু কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। এভাবে চলতে পারেনা।

বুধবার দুপুরে বিএনপির প্রার্থী সফিকুর রহমান জেলা সদর হাসপাতালে আহত বিএনপি ও জামায়েত ইসলামীর নেতা-কর্মীদের দেখতে আসেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দপূর্ণ অবস্থানে থেকে নির্বাচনটা করতে চাই। এখানে আমাদের ধৈর্য্য ধারণ করাটা জরুরী। কর্মীদের মধ্যে যদি ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকে তাহলে আমরা বড়রা বসে তা মিটিয়ে ফেলতে পারতাম। এখানে সহিংসতার কোন প্রয়োজন ছিল না। একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এসব করছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। আমাদের কর্মীদের বলেছি আমরা আরো সতর্ক ও ধৈর্যশীল হব। 

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, ভোজেশ্বর এলাকায় জামায়েত ইসলামী ও বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ দুটি মামলা করেছেন। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ওই দুটি রাজনৈতীক দলের পক্ষ হতে আরও দুটি মামলার আবেদ করা হয়েছে। আমরা তাও যাচাই বাচাই করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত