বাংলাদেশে অনিরাপদ নগরায়ণ আর কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। নলকূপের গভীর গর্ত কিংবা ঢাকনাহীন ম্যানহোল যেন একেকটি মৃত্যুকূপ, যেখানে পড়ে ঝরে যাচ্ছে অমূল্য প্রাণ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত এক দশকে কেবল ম্যানহোল ও খোলা গর্তে পড়ে শিশুসহ অন্তত ৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৪ সালে রাজধানীর শাহজাহানপুরে গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যাওয়া চার বছরের শিশু জিহাদের করুণ মৃত্যু দেশবাসীকে স্তম্ভিত করেছিল। প্রায় ২৩ ঘণ্টা ধরে চলা আদিম ও অবৈজ্ঞানিক উদ্ধার প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, যা আমাদের উদ্ধার কাজের সীমাবদ্ধতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এরপর ২০১৭ সালে পুরান ঢাকায় ম্যানহোলে পড়ে প্রাণ হারান সানজিদা নামের এক শিশু এবং ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে নালায় পড়ে মারা যায় শিশু ইয়াছিন। ২০২১ সালে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধ নালায় পড়ে নিখোঁজ হওয়া কলেজছাত্রী শেহরিণ মাহবুব সাদিয়া এবং পরবর্তীকালে সবজি বিক্রেতা সালেহ আহমেদের মৃত্যু রাষ্ট্রীয় অবহেলার চূড়ান্ত উদাহরণ। চরম উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২৫ পার হয়ে ২০২৬ সালেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। গত ১০ ডিসেম্বর রাজশাহীর তানোরের কোয়েলহাট গ্রামে একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদ হোসেন। প্রায় ৩২ ঘণ্টার অভিযানের পর তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি; হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামের রাউজানে ৩ বছরের শিশু মিসবাহ উদ্দিনের একইভাবে গভীর গর্তে পড়ে মৃত্যু হয়েছে। অথচ এসব ঘটনার পরও উদ্ধার তৎপরতায় বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন বা কাজের গতি বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাঝে কোনো বিশেষ তৎপরতা নেই।
একইভাবে মেগা প্রকল্পের নির্মাণাধীন স্থাপনা থেকেও মৃত্যু নিয়মিত খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের আগস্টে রাজধানীর উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার পড়ে একটি প্রাইভেটকারের পাঁচজন যাত্রী নিহত হন, যার মধ্যে দুজন শিশু ছিল। গত বছরের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রোরেলের পিলার থেকে ভারী ধাতব যন্ত্রাংশ (বিয়ারিং প্যাড) খুলে নিচে পড়ে আবুল কালাম নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। প্রায় ১৪০-১৫০ কেজি ওজনের এই বিশাল রাবার ও ধাতব খণ্ডটি সরাসরি তার মাথায় পড়লে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এর আগে ২০২৪ সালেও একই স্থানে যন্ত্রাংশ খসে পড়র ঘটনা ঘটলেও, কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, যার মাসুল দিতে হয় এক নিরপরাধ পথচারীকে। একইভাবে নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট বা রড পড়ে মৃত্যুর ঘটনা এখন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। গত ২২ জানুয়ারি, রাজধানীর গুলশানে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আশফাকুজ্জামান চৌধুরী পিপলু ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় নির্মাণাধীন ‘কনকর্ড এমবিআর স্কাইলাইন’ ভবনের ২৫ তলা থেকে একটি লোহার রড সরাসরি তার মাথায় ঢুকে যায় এবং তিনি ঘটনাস্থলে মৃত্যুবরণ করেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কেবল ঢাকাতেই প্রতি বছর নির্মাণাধীন ভবনে নিরাপত্তার অভাবে অর্ধশতাধিক মানুষ হতাহত হন। রাষ্ট্রযন্ত্রের বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং এ ধরনের মৃত্যুকে স্রেফ ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার প্রবণতা, দায়িত্বজ্ঞানহীন ঠিকাদারদের সাহসী করে তুলেছে। যদিও দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০৪এ ধারা অনুযায়ী, অবহেলার কারণে মৃত্যুর জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে, সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু এই শাস্তি অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের গুরুত্বের তুলনায় নগণ্য। অবহেলাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের দেওয়া ঐতিহাসিক কিছু রায় এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙার পথ দেখিয়েছে। যেমন শিশু জিহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উচ্চ আদালত রেলওয়ে ও ফায়ার সার্ভিসকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
একইভাবে চট্টগ্রামের নালায় পড়ে সাদিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় হাইকোর্ট সিটি করপোরেশন ও সিডিএকে ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ প্রদান করেন। এ ছাড়া বিআরটি গার্ডার দুর্ঘটনার পর, হাইকোর্ট ভুক্তভোগী পরিবারকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন। যদিও উচ্চ আদালতের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশগুলো এক ধরনের আর্থিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, কিন্তু প্রকৃত দোষীদের ফৌজদারি শাস্তির হার হতাশাজনক। এ ধরনের মৃত্যু কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের কাঠামোগত ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। উন্নত বিশ্বে যেখানে গভীর গর্তে বা নির্মাণাধীন এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেন্সর প্রযুক্তি এবং সুরক্ষিত বেরিয়ার ব্যবহার করা হয়, সেখানে আমাদের দেশে বাঁশের খুঁটি বা নড়বড়ে টিনের বেষ্টনীই ভরসা। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকা লক্ষাধিক ম্যানহোলের মধ্যে কত শতাংশে ঢাকনা নেই, তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। কর্তৃপক্ষের এই তথ্যহীনতা এবং সমন্বয়হীনতা প্রমাণ করে যে, তারা সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে কতটা নির্বিকার। যখনই কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তখন একে অপরকে দোষারোপ করার একটি মহড়া শুরু হয়, কিন্তু স্থায়ী কোনো বৈজ্ঞানিক সমাধান গৃহীত হয় না। উদ্ধার অভিযানের ক্ষেত্রেও আমাদের প্রযুক্তিগত পিছিয়ে থাকা স্পষ্ট। ২০১৪ সালের জিহাদ থেকে গত বছরের সাজিদ পর্যন্ত, দীর্ঘ এক দশকেও ফায়ার সার্ভিস বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো গভীর পাইপ থেকে মানুষ উদ্ধারের জন্য কোনো বিশেষায়িত রোবটিক হাত বা হাই-রেজল্যুশন ক্যামেরা কিট সংগ্রহ করতে পারেনি। উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আজও মান্ধাতা আমলের, যা সময়ক্ষেপণ করে প্রাণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অথচ আধুনিক বিশ্বে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যাধুনিক ক্যামেরা এবং বায়ু চলাচলের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়ানো হয়। নীতিনির্ধারকদের প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তার অভাবই একের পর এক ট্র্যাজেডির জন্ম দিচ্ছে। মেট্রোরেল বা বিআরটির মতো বড় প্রকল্পে নিরাপত্তা তদারকির জন্য নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকলেও, বাস্তবে তার প্রয়োগ চোখে পড়ে না। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় কাজ করার সময় যে ধরনের ‘সেফটি প্রটোকল’ মানার কথা ছিল, তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই এড়িয়ে যায়। মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ার মতো ঘটনা প্রমাণ করে যে, নির্মাণের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে চরম ঘাটতি রয়েছে। যদি উচ্চপর্যায়ের তদারকি এবং গাফিলতির জন্য ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতো, তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে এমন উদাসীন থাকতে পারত না।
নির্মাণাধীন ভবন থেকে রড বা ইট পড়ে মৃত্যুর ঘটনা প্রতিরোধে রাজউকের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রশ্নবিদ্ধ। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্মাণস্থলে নেটিং বা নিরাপত্তা জাল ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও ঢাকার অধিকাংশ ভবনেই তা দেখা যায় না। রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক শিথিলতার কারণে আইন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে, আর রাজপথ হয়ে উঠছে একেকটি মৃত্যুফাঁদ। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে হলে, প্রচলিত আইনের আমূল সংস্কার প্রয়োজন। যতক্ষণ পর্যন্ত দায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে বিভাগীয় মামলা এবং ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা আসবে না। প্রতিটি মৃত্যুর দায়ভার নির্দিষ্ট সংস্থার প্রধানকে বহন করতে হবে এমন একটি আইনি কাঠামো আজ সময়ের দাবি। নাগরিক সচেতনতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি কেন্দ্রীয় ‘সেফটি মনিটরিং সেল’ গঠন করা প্রয়োজন। যেখানে সাধারণ মানুষ কোনো ম্যানহোল খোলা দেখলে বা নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখলে সরাসরি অভিযোগ করতে পারবে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের প্রাণের চেয়ে অবকাঠামো নির্মাণকে বেশি প্রাধান্য দেয়, তবে এই মৃত্যুমিছিল চলতেই থাকবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রকৌশলগত ত্রুটির দায়বদ্ধতা কেবল মাঠ পর্যায়ের শ্রমিকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক ধরনের প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ যেকোনো বড় দুর্ঘটনায় নকশা অনুমোদনকারী প্রকৌশলী এবং তদারককারী কর্মকর্তার দায়ভার সবচেয়ে বেশি হওয়া উচিত। ২০২৫ সালের মেট্রোরেল দুর্ঘটনা কিংবা ২০২৬ সালের গুলশানের রড পড়ার ঘটনায় মূল দায়ীদের পর্দার আড়ালে রেখে কেবল ক্রেন চালক বা সামান্য হেলপারকে গ্রেফতার করা প্রকৃত বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেয়। প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না করলে, প্রভাবশালী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলো কখনো নিরাপত্তা মান উন্নয়নের জন্য বাজেট বরাদ্দ দেবে না। জবাবদিহিতার অভাব এবং তথাকথিত ‘উন্নয়নের ব্যস্ততা’ আমাদের জীবনকে সস্তা করে তুলছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি নিরাপদ নগরীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রতিটি ইঞ্চিতে সাধারণ মানুষের চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অথচ বাংলাদেশে রাস্তা খুঁড়ে রাখা এবং মাসের পর মাস কাজ ফেলে রাখার সংস্কৃতি যেন স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে এসেও যখন দেখা যায়, একটি উন্নয়ন প্রকল্পের নিচে পথচারীকে প্রাণ দিতে হচ্ছে, তখন বুঝতে হবে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং সেফটি স্ট্যান্ডার্ড এবং নির্মাণ তদারকিতে বড় ধরনের দুর্নীতি মিশে আছে। যদি কাজের তদারকি করার জন্য সিসি ক্যামেরা এবং লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা যেত, তবে দায়িত্বে থাকা কর্মীরা গাফিলতির সাহস পেত না। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির কারণেই মূলত নিরাপত্তা বিধিগুলো লঙ্ঘন করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবন বা বড় প্রকল্পের মালিক প্রভাবশালী হওয়ার কারণে স্থানীয় প্রশাসন বা রাজউক ব্যবস্থা নিতে ভয় পায়। এই ভয় দূর করতে হলে বিচার বিভাগকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে এবং স্বপ্রণোদিত হয়ে অবহেলাগুলোকে আমলে নিতে হবে। একটি দেশের উন্নয়ন কেবল কংক্রিটের কাঠামো দিয়ে পরিমাপ করা যায় না, বরং সেই অবকাঠামোটি মানুষের জন্য কতটা নিরাপদ, তা দিয়েই প্রকৃত সমৃদ্ধি বিচার করা উচিত। প্রাণ বিয়োগের পর তদন্ত কমিটির কালক্ষেপণ এবং লোকদেখানো শোক প্রকাশ বন্ধ করতে হবে। আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে অপরাধীদের পার পাওয়ার পথ চিরতরে বন্ধ হবে? ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে কেবল ক্ষতিপূরণ নয়, বরং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যদি বিচারহীনতা চলতে থাকে এবং আধুনিক উদ্ধার পদ্ধতির প্রয়োগ না ঘটে, তবে আগামীর শহর বসবাসের অযোগ্য এবং অনিরাপদ থেকে যাবে। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হোক, উন্নয়নের প্রধান শর্ত।
লেখক: সিইও, ইটিসি ইভেন্টস লিমিটেড
