জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এগিয়ে

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

নির্বাচনের আর মাত্র ১২ দিন বাকি। এই সময়ে এসেও বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াত ইসলামী এবার দলটির সামনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে সাম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ইনোভেশন কনসালটিংয়ের’ জরিপে বিএনপিকে ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে উঠে এসেছে, দেশের ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রেখেছেন। তবে গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে নতুন বিপ্লব ঘটাবে বলে জরিপে উঠে এসেছে। দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে মতামত দিয়েছে। তারা দেশে পরিবর্তন দেখতে চান।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ইনোভেশন কনসালটিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার। বিআরএআইএন ও ভয়েস ফর রিফর্ম নামের দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় এই জনমত জরিপ চালানো হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে’তে (পেপস) দেখা গেছে, আগে যারা জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে ছিলেন, তাদের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এর পাশাপাশি নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়া আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের একটি বড় অংশ বিএনপিকে সার্পোট করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইনোভেশন কনসালটিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার জানান, পেপসের প্রথম রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল গত বছরের মার্চে আর দ্বিতীয় রাউন্ডের ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডে অংশ নেওয়া নাগরিকদের নিয়ে টেলিফোনে তৃতীয় রাউন্ডের জরিপ চালানো হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি জানুয়ারি মাসের ১৬ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ৫ হাজার ১৪৭টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই জরিপের প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম ও শহর এলাকা থেকে সাক্ষাৎকারদাতাদের বাছাই করা হয়। ভোটার উপস্থিতি, গণভোট সম্পর্কে জনমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পর্কে ধারণা, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত ও দলীয় পছন্দএই ছয় বিষয়ে নেওয়া হয় মতামত।

জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। জরিপে অংশ নেওয়া ২ দশমিক ৭ শতাংশ নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী কে, তা তারা বলতে পারছেন না। তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকছে।

এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ী প্রসঙ্গে জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজেদের এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিততে পারেন, এই প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম বলেছেন। ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন। রাউন্ড ২-এর তুলনায় রাউন্ড ৩-এ বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই হার বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।

বিএনপির দিকে ঝুঁকছে আওয়ামী লীগ : প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে যারা সিদ্ধান্তহীন ছিলেন বা পছন্দ প্রকাশ করেননি, তাদের মধ্য থেকে জামায়াতের তুলনায় বেশি ভোট পেয়েছে বিএনপি। বিএনপির সম্ভাব্য ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটের মধ্যে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে আগে সিদ্ধান্তহীন ও অনির্ধারিত ভোটারদের কাছ থেকে। জামায়াতের সম্ভাব্য ৩১ শতাংশ ভোটের মধ্যে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ এসেছে।

হ্যাঁ ভোট : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে গণভোটের আয়োজন করেছে সরকার। একই দিন দুই ভোটের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরদাতাদের প্রায় ৬০ শতাংশ গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, গণভোটের বিষয়ে তারা জানেন না। গণভোটের বিষয়ে জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা ও মতামতে পার্থক্য দেখার কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত