ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে এক হাজতি অন্য হাজতির পরিচয় ব্যবহার করে মুক্ত হয়ে পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কারাগারের ভেতরে থাকা কয়েকজন বন্দির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগজে ৬জন কারারক্ষীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
এঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেলার মনজুরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাদি হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন—পলাতক হাজতি হৃদয় (২৮), নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা হাজতি দিদার হোসেন (২৮), একই উপজেলার নান্দুরা পূর্কপাড়ার বাসিন্দা হাজতি বিল্লাল মিয়া (২২), সদর উপজেলার পাঘাচংয়ের বাসিন্দা কয়েদি মো. পলাশ হোসেন (২৫), কসবা কোন্নাবাড়ির বাসিন্দা কয়েদি আক্তার হোসেন ছোটন (৩০), সিলেটের মোগলাবাজার সুলতানপুরের বাসিন্দা হাজতি শিপন মিয়া (৪৫), কসবার সোনারগাঁওয়ের বাসিন্দা হাজতি মনির হোসেন (৫৫)। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া কারারক্ষীরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকারাগারের কারারক্ষী মো. মোরশেদ আলম, ফটক কারারক্ষী মো. হানিফ, মুক্তি শাখার কারারক্ষী মো. সাহাব উদ্দিন, ভর্তি শাখার ইনচার্জ ও কারারক্ষী রবিউল আলম, কারাভ্যন্তর গোয়েন্দা কারারক্ষী মো. জাহিদ হাসান, আইসিটি শাখার কারারক্ষী মো. আবু খায়ের।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৯ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ১১টা ৫২ মিনিটে ২নং হাজতি দিদার হোসেনের জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছালে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ১নং হাজতি হৃদয় কৌশলে দিদার হোসেনের পরিচয় ধারণ করে এবং নিজেকে দিদার পরিচয় দেয়। কেস হিস্ট্রি টিকিটে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
এ সময় কারাগারে থাকা আরও কয়েকজন হাজতি তাকে দিদার হিসেবে শনাক্ত করে সায় দেয়। ডিউটিতে থাকা কারারক্ষীরা কাগজপত্র ও বন্দিদের শনাক্তকরণের ভিত্তিতে হৃদয়কে দিদার হোসেন মনে করে মুক্ত করে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মুক্তির কিছুক্ষণ পর বন্দিদের মধ্যে কথাকাটাকাটির সূত্র ধরে বিষয়টি সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন বন্দি পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে ওই হাজতিকে পালাতে সহায়তা করেছে বলে স্বীকার করেছে—এমন দাবি মামলার বাদীর। মামলায় হৃদয়, দিদার হোসেন, বিয়াল সিয়া, পলাশ হোসেন, আক্তার হোসেন ছোটন, শিপন মিয়া ও মনির হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের কারা উপ মহাপরিদর্শক মো. ছগির মিয়া বলেন, অন্য আসামির জামিনের কাগজ দেখিয়ে হৃদয় নামে এক আসামি কারাগার থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছে। এঘটনায় সদর থানায় থানায় মামলা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগজে ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় দেশ রূপান্তরকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেলার মনজুরুল ইসলাম বাদি হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রুজু হয়েছে বলেও ওসি জানান।
