গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিষিদ্ধ আ. লীগের নেতাকর্মী গ্রেপ্তার না হওয়ায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নে ১৪২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিসহ ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এলাকায় স্ব স্ব দলের কর্মী সমর্থক ও প্রার্থী নিজের প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকসহ নানা ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভোট নিয়ে নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়ছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সিংহভাগ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এছাড়াও উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের বেশিরভাগ ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ আত্মগোপনে থেকে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ছত্রছায়ায় ইউনিয়ন পরিষদে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
তাই সচেতন মহল মনে করেন, যে কোন সময় তারা গোপনে সংগঠিত হয়ে ভোট বানচালের চেষ্টা করতে পারে।
সম্প্রতি, গত ২৫ জানুয়ারি রাতে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক ও কাটাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জোবায়ের আহম্মেদ শফিক মাহমুদ গোলাপ দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজ এলাকায় নির্বাচন বানচালের লক্ষে গোপন বৈঠক করছিলেন। এ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার নিজ বাড়িতে অভিযানে যায়। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গোবিন্দগঞ্জ থানার এস আই কায়েস, এসআই সেলিম ও এসআই মোমিনুলসহ ৪ পুলিশ গুরুতর আহত হন।
পরে খবর পেয়ে গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (সি সার্কেল) রশিদুল বারির নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ সময় পুলিশের একটি মোটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করলেও তার মধ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের পদ-পদবি ধারী কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এতে নিরাপত্তার শঙ্কা আরো প্রকট হচ্ছে ।
সাধারণ ভোটাররা মনে করেন, নির্বাচনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে।
তারা জানান, গাইবান্ধা ৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাকিল আলম বুলবুল, পৌর মেয়র, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুকিতুর রহমান রাফি, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেস আলী বাদু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র আতাউর রহমান সরকারসহ অর্ধশতাধিক হেবিওয়েট নেতা গ্রেপ্তার এড়িয়ে আত্মগোপনে থাকায় ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে নিরাপত্তাহীনতার কোন ধরণের শঙ্কা নেই। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত থাকবে।
তিনি আরো জানান, তাছাড়া প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। বিজিবি সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট কেন্দ্রসমূহে মোবাইল টিম কাজ করবে, থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবেন।
ছাত্রদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত না করার আহ্বান বিএনপির