গাজীপুরে ‘ছাত্রদল নেতা কর্তৃক নারী হত্যা’ ও ‘বিএনপির অব্যাহত নারী নিপীড়নে’র প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর। আজ রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে শাহবাগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তারা ‘গাজীপুরে খুন কেন, খুনী তারেক জবাব দে’; ‘প্লান প্লান কোন প্লান, মানুষ হত্যার মাস্টারপ্ল্যান’; ‘তারেক তোমার প্লান কি, লাশতন্ত্র আর দুর্নীতি’; ‘রাজতন্ত্র নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে সুন্দর পরিবেশ ও সুযোগকে নস্যাৎ করতে একটি দল পাগল হয়ে গেছে। গত দেড় বছরে ওই দল চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করেছে। তাদের নেতা দেশে আসার পর তারা আরও লাগামহীন হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ বুঝে গেছে তারা গণতন্ত্র চায় বা, তারা চায় মাফিয়াতন্ত্র। তারা সারা দেশে আমার মা-বোনদের ওপর হামলা করছে৷ তারা দুই শ ত্রিশ জনের বেশি নিজ দলের নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। কিছুদিন আগে শেরপুরে জামায়াত নেতাকে হত্যা করেছে। গাজীপুরে তাদের হাত থেকে নারী ব্যবসায়ীও রক্ষা পায়নি। তাকেও নৃসংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সারা দেশে বিএনপি ও ছাত্রদলের হত্যা, নারী নিপীড়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, গত ১৮ মাসে বিএনপি শতাধিক নারীকে ধর্ষণ করেছে, ২৩১ জনকে খুন করেছে, সারা দেশে চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বে লিপ্ত হয়েছে। সর্বশেষ তারা গতকাল এক নারী ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে। ক্ষমতার লোভে তারা মজলুম থেকে জালেমে রূপান্তরিত হয়েছে। তারেক রহমান দেশে এসেছেন মানুষ হত্যা ও নারীদের হেনস্থা করার প্লান নিয়ে। আপনারা আমাদের নারীদের হিজাব ধরে টান দিবেন, কাপড় খুলে ফেলার হুমকি দিবেন, গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি দিবেন, আবার ফ্যামিলি কার্ডের গল্প শোনাবেন? যদি পারেন চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন বন্ধ করার কার্ড তৈরি করেন। জনগণ ১২ তারিখ দেখিয়ে দিবে এদেশে ধর্ষক, চাঁদাবাজদের ঠাঁই নাই।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ৫ আগস্টের পর যখন সবাই সুস্থ রাজনীতি করতে চেয়েছে তখন একটি দল হত্যা, চাঁদাবাজি ও নারী নিপীড়নের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। গতকাল একজন হিন্দু নারী ব্যবসায়ীকে নৃসংসভাবে হত্যা করেছে। তার সন্তান এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। একটু আগে খবর এলো চট্টগ্রামে সপ্তম শ্রেণির নারীকে ধর্ষণের দায়ে এক ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার হয়েছে। ২০১৮ সালে সুবর্নচরে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় তার মেয়েকে যে ধর্ষণ করেছে সে বিএনপি প্রচারণায় নেমেছে। আগামী ১২ জানুয়ারি দেশে নতুন সূর্য উদয় হবে যেখানে সকল নারী-পুরুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে খুনী, চাঁদাবাজ ও নারী নিপীড়কদের বাংলাদেশ থেকে লাল কার্ড প্রদর্শন করবে।
