কিউবা মার্কিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে দেশটি। হাভানা জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সংলাপে বসতে তারা প্রস্তুত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে কিউবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, দেশটি কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর কিউবায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় কিউবার প্রধান তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং আঞ্চলিক জোটগুলোর সঙ্গে সম্পর্কেও চাপ পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসন কিউবার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আবার শুরু করেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার সহায়তা হারিয়ে কিউবা দুর্বল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ আটক ও জব্দ করেছে এবং মেক্সিকোসহ অন্য দেশগুলোর ওপর কিউবায় জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের চাপ দিচ্ছে—যা দেশটিতে গুরুতর মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য 'অস্বাভাবিক ও গুরুতর হুমকি' হিসেবে উল্লেখ করে এবং চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তোলে। কিউবা এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, কিউবায় কোনো বিদেশি সামরিক ঘাঁটি নেই এবং সন্ত্রাসবাদ ও অবৈধ অর্থায়নের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর 'জিরো টলারেন্স' নীতি রয়েছে।
দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক, নতুন করে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং ফ্লোরিডায় বসবাসকারী কিউবান-আমেরিকান ভোটারদের রাজনৈতিক চাপের প্রেক্ষাপটে হাভানার এই তুলনামূলক নরম অবস্থান সামনে এসেছে। এদিকে পোপ লিওও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উত্তেজনা কমাতে ও কিউবার জনগণের দুর্ভোগ এড়াতে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।
