বিশ্বকাপে ভারত ফেভারিট, অস্ট্রেলিয়া অন্তত সেমিফাইনাল খেলবে: রিকি পন্টিং

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

কন্ডিশন, খেলোয়াড়দের মান ও শক্তিশালী স্কোয়াডের কারণে ভারতকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরিষ্কার ফেভারিট বলছেন কিংবদন্তী রিকি পন্টিং। তবে অস্ট্রেলিয়াকে অন্তত সেমিফাইনালে খেলার দল মনে করেন তিনি। 

২০০৩ ও ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক পন্টিং আইসিসির এক অনুষ্ঠানে বলেন,  সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়া দলে কিছুটা রদবদল হলেও সেটি বড় কোনো পরিবর্তন নয়। বর্তমান স্কোয়াডে এখনও প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ইনজুরি ও ইনজুরি থেকে ফেরা নিয়ে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে বিদায় নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। আফগানিস্তানের কাছে অপ্রত্যাশিত হার এবং ভারতের বিপক্ষে ২৪ রানের পরাজয় তাদের অভিযান থামিয়ে দেয়। দুই বছর পর সেই হতাশা কাটিয়ে আবারও শিরোপা চ্যালেঞ্জে ফিরতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া—এমনটাই মনে করেন পন্টিং।

তবে এবারের দলে বড় অনুপস্থিতি পেস আক্রমণের মূল ভরসা প্যাট কামিন্স। দীর্ঘদিনের পিঠের চোট থেকে পুরোপুরি না সেরে ওঠায় চূড়ান্ত ১৫ জনের দলে জায়গা হয়নি তার। তার বদলে দলে নেওয়া হয়েছে বাঁহাতি পেসার বেন ডোয়ারশুইসকে।

সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা ও ম্যাচজয়ী ক্রিকেটারে ভরা দল হলেও পন্টিংয়ের চোখে পার্থক্য গড়ে দেবে অলরাউন্ডাররাই। তার ভাষায়, মার্কাস স্টয়নিস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ক্যামেরন গ্রিন—এদের মতো একাধিক অলরাউন্ডার থাকায় অস্ট্রেলিয়া দারুণ নমনীয়তা পাচ্ছে দল গঠনে। সঙ্গে উঠে আসা তরুণ কুপার কনোলিও রয়েছেন আলোচনায়। টানা দ্বিতীয়বার বিগ ব্যাশ লিগে এমভিপি হওয়া এই তরুণকে প্রয়োজনে স্পিন সহায়তা হিসেবে ম্যাক্সওয়েল ও অ্যাডাম জাম্পার পাশে ব্যবহার করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন পন্টিং।

দক্ষিণ এশিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বর্তমানে পাকিস্তানে টি–টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে অস্ট্রেলিয়া। সেই সিরিজে ক্যামেরন গ্রিনকে তিন নম্বরে ব্যাট করানো হচ্ছে। পন্টিংয়ের ধারণা, বিশ্বকাপেও গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যাটিং পজিশনে গ্রিনকেই দেখা যাবে। ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শের জুটি বহাল রাখার পরিকল্পনাই রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের।

তবে বিকল্প হিসেবেও জশ ইংলিসের নাম উল্লেখ করেছেন পন্টিং। প্রয়োজনে তিন নম্বরে ব্যাট করার সক্ষমতা আছে তারও। মিডল অর্ডারে ম্যাক্সওয়েল ও স্টয়নিসের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটার থাকায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং গভীরতা নিয়ে তিনি আশাবাদী।

তবে একই সঙ্গে সাবধানী বার্তাও দিয়েছেন সাবেক এই অধিনায়ক। তার মতে, আইসিসি ইভেন্ট জেতা সব সময়ই কঠিন, কারণ বিশ্বের সেরা দলগুলো একসঙ্গে মাঠে নামে। শিরোপা জিততে হলে বড় ম্যাচে বড় তারকাদের পারফর্ম করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর গত বিশ্বকাপে ঠিক সেটাই পায়নি অস্ট্রেলিয়া—গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাদের বড় খেলোয়াড়রা ছন্দে ছিলেন না।

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া তাদের অভিযান শুরু করবে ১১ ফেব্রুয়ারি, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। গ্রুপ ‘বি’-তে তাদের সঙ্গী আয়ারল্যান্ড, ওমান, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত