আমিরুলদের এশিয়াড বাছাইয়ের প্রস্তুতি শুরু

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪০ এএম

দীর্ঘ বিরতির পর সরব হয়েছে হকি অঙ্গন। গতকাল বৃহস্পতিবার এশিয়ান গেমস বাছাইয়ের জন্য শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। প্রথম দিনে প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া ৩৭ সদস্যের মধ্যে ৩৬ জন অংশ নেন ফিটনেস টেস্টে (কুপার টেস্ট)। ২৫ মার্চ ওমানের মাসকটে শুরু হবে বাছাইপর্ব, চলবে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত। বাছাই উতরালে মিলবে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে হতে যাওয়া ২০তম এশিয়ান গেমসে। গুরুত্বপূর্ণ বাছাইয়ের জন্য চূড়ান্ত দল গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কুপার টেস্টের মাধ্যমে।

গতকাল বিকেলে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে কোচ আশিকুজ্জামানের অধীনে হয় কুপার টেস্ট। এরপর খেলোয়াড়রা ফিরে যান পাশের মওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে। সেখানে ঘণ্টাখানেকের অনুশীলন দিয়ে শেষ হয় প্রথম দিন। প্রায় দুই মাস পর মাঠে ফেরা খেলোয়াড়দের ফিটনেসের অবস্থা জানতে চাওয়া হয়েছিল কোচ আশিকুজ্জামানের কাছে। তিনি বলেন, ‘আসলে জুনিয়র ওয়ার্ল্ড কাপ এবং পাকিস্তান সিরিজের পর ঘরোয়া কোনো খেলা ছিল না। ফলে ফিটনেস ধরে রাখা খুবই কঠিন। তারপরও ছেলেরা যার যার জায়গা থেকে শতভাগ চেষ্টা করেছে। হয়তো আশানুরূপ হয়নি। তবে সামনে আরও এক-দেড় সপ্তাহ সময়, উন্নতি হবে।’

ক্যাম্প শুরু নিয়ে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘এটি এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বের ক্যাম্প এবং আমাদের এই টুর্নামেন্টে খেলতেই হবে। ওমানে ২৫ মার্চ থেকে ম্যাচ শুরু হবে। আমরা এখনো অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে আশা করছি এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে তা জানতে পারব।’ ফেডারেশনের আর্থিক সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিছু অর্থ ফেডারেশনের তহবিল থেকে এসেছে এবং কিছু স্পন্সরদের কাছ থেকে। বড় খেলাগুলোর তুলনায় হকিতে স্পন্সর পাওয়া কিছুটা কঠিন। তবুও আমাদের সাম্প্রতিক ভালো ফলগুলোর কথা বলে চেষ্টা করছি স্পন্সরদের আগ্রহী করে তুলতে।’

এই ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড পুস্কর খিসা মিমো, যাকে এশিয়া কাপের আগে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া নাঈম উদ্দিন, মাইনুল ইসলাম কৌশিক ও মাহবুব হোসেনদেরও রাখা হয়েছে প্রাথমিক দলে। তবে এবারও ডাক পাননি দেশের হকির সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন রাসেল মাহমুদ জিমি।

মাঠে নিয়মিত খেলা না হওয়ায় ফিটনেস ভালোমানে রাখা কঠিন বলে মনে করেন কোচ আশিক। এদিকে ফের জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়ে খুশি মিমো নিজেদের বাছাইপর্বের জন্য সেরা মানে নিয়ে যাওয়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন। এদিকে জুনিয়র বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো আমিরুল ইসলাম চান সিনিয়র দলেও নিজের প্রতিভার ছাপ রাখতে, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং এশিয়ান গেমসে কোয়ালিফাই করা। যেহেতু আমরা এএইচএফ কাপে ভালো করতে পারিনি, সেহেতু সেই ব্যর্থতা মুছে ফেলে বাছাইয়ে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে যে করেই হোক।’

জুনিয়র বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড আমিরুল বলেন, ‘আমার লক্ষ্য প্রথম দলে সুযোগ পাওয়া। কারণ ৩৭ জন কল পেয়েছে। এখানে আমার চেষ্টা করতে হবে যে সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে টিমে থাকা। এরপর সর্বোচ্চটা দিয়ে দেশের জন্য সেরা ফলাফল আনার চেষ্টা করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত