প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে তারেক রহমান

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:২০ এএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবার চেয়ে এগিয়ে আছে বলে মনে করছে প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’। গত সোমবার সাময়িকীটির সর্বশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত এক বিশেষ বিশ্লেষণে তারেক রহমানকে নিয়ে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

ইকোনমিস্ট লিখেছে, বিখ্যাত এক রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পর থেকেই জনমত জরিপে তার দল বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।

দ্য ইকোনমিস্ট তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আওয়ামী লীগ শাসনের অবসানের পর এটিই হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম সত্যিকারের অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন। প্রায় ১৮ মাস আগে সংঘটিত এক গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে, যাকে সাময়িকীটি একটি ‘বিপ্লব’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটলে তা যেমন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, তেমনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন নিরসনেও সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের পরিকল্পনা নিয়ে ইকোনমিস্ট জানায়, তিনি এরই মধ্যে বেশ কিছু অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ক্ষমতায় গেলে তার সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলবে। পরিবেশ রক্ষায় প্রতি বছর ৫ কোটি গাছ লাগানো এবং পানিসংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মতো সাহসী পরিকল্পনাও তিনি প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও কার্যকর সম্পর্কের বিষয়ে তিনি আশাবাদী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাসনব্যবস্থা ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান সাময়িকীটিকে জানিয়েছেন, তার সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার হবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ন্যায়বিচারের আওতায় আনা হবে, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কোনো অপব্যবহার করা হবে না। জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলটি নারী প্রার্থী না দেওয়া এবং দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতার অভাবে শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যা নির্বাচনী লড়াইয়ে তারেক রহমানের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি করেছে।

দ্য ইকোনমিস্ট সবশেষে মন্তব্য করেছে যে, দীর্ঘ সময় পর লন্ডন থেকে ফিরে আসা এই তারেক রহমান আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ও ভিন্ন। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পথ বন্ধ করতে সহায়তা করবে বলে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, তারেক রহমানের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিপূর্বে টাইম ম্যাগাজিন ও ব্লুমবার্গের মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও অনুরূপ পূর্বাভাস দিয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত