বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আজ শনিবার প্রদর্শিত হবে দুটি নাটক। একটি স্বপ্নদলের হরগজ অন্যটি সমতল নাট্যদলের লুৎফার প্রদীপ। হরগজ নাটকটি দেখানো হবে স্টুডিও থিয়েটার হলে আর লুৎফার প্রদীপ প্রদর্শিত হবে এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে। ১৯৮৯ সালে মানিকগঞ্জ জেলার হরগজে সংঘটিত প্রলয়ংকরী টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৯২ সালে সেলিম আল দীন হরগজ নাটকটি রচনা করেন। এটি প্রথম মঞ্চে এনেছিল ঢাকা থিয়েটার।
সেলিম আল দীন নিজেও এ নাটকের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তারপর এটি মঞ্চে আনে স্বপ্নদল, যার নির্দেশনা দেন জাহিদ রিপন।
হরগজ নাটকে দেখা যায়, একদল ত্রাণকর্মী নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে টর্নেডো-বিধ্বস্ত গন্তব্যে পৌঁছে নানা অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক ঘটনা দেখে বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়ে। সেখানে যেন এক মহাপ্রলয় ঘটে গেছে। এক সময় ত্রাণকর্মীদের প্রধান আবিদ ওই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে খণ্ডিত মানবদেহের অঙ্গ-উপাঙ্গ দেখে মর্মাহত ও হতবিহ্বল হয়ে ওঠে। হরগজ জনপদে মানুষের জীবনের এমন অপচয় প্রত্যক্ষ করে প্রাচ্যবোধে তাড়িত আবিদ ব্যক্তির শোককে সমষ্টির শোকরূপে অনুধাবন করে কিংবা সব মানবকে আপন আত্মীয়জ্ঞানে উন্মাদপ্রায় হয়ে পড়ে। কাব্যিক এ প্রযোজনায় শেষাবধি হরগজ যেন উদ্ধারকারী দলের সামনে রূপান্তরিত হয় বিশ্বব্যাপী ভাঙা মানবভুবনের রূপক হিসেবে। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোনালী, শিশির, সামাদ, আলী হাসান, জুয়েনা শবনম, সুমাইয়া, জাহিদ রিপনসহ আরও অনেকেই।
অন্যদিকে আজ এবং আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে লুৎফার প্রদীপ। তানভীর মোকাম্মেলের রচনা ও সগীর মোস্তফার নির্দেশনায় এ নাটকে একক অভিনয়ে দেখা যাবে চিত্রলেখা গুহকে। চার দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে মঞ্চে এটি তার প্রথম একক অভিনয়। লুৎফার প্রদীপ নাটকটি নিয়ে চিত্রলেখা গুহ বলেন, ‘এটি একজন দৃঢ়চেতা নারীর গল্প, যে ভাঙবে, কিন্তু মচকাবে না। একই সঙ্গে এটি একটি মানবিক নাটক, যেখানে ঐতিহাসিক বিষয়ও রয়েছে। এমন গল্পের অংশ হতে পেরে আমি আপ্লুত।’
লুৎফার প্রদীপ নাটকের গল্পে দেখা যাবে, পলাশীর যুদ্ধে পরাজিত ও নৃশংসভাবে নিহত হওয়ার পর নবাব সিরাজউদ্দৌলার লাশ ভাগীরথী নদীর অপর পাড়ে খোশবাগে নবাব আলীবর্দী খানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। সিরাজের স্ত্রী লুৎফুন্নেসা বা লুৎফা স্বামীকে ভালোবেসে প্রতি সন্ধ্যায় তার কবরে নিয়মিতভাবে প্রদীপ জ্বালাতেন। নিজের মৃত্যু পর্যন্ত লুৎফা সিরাজের কবরে এই প্রদীপ জ্বালিয়ে গেছেন। এ প্রদীপ কি কেবলই মৃত স্বামীর প্রতি এক বিধবা নারীর প্রেমের প্রকাশ? নাকি তার চেয়ে বেশি কিছু?
নাট্যকার তানভীর মোকাম্মেল বলেন, ‘প্রতি সন্ধ্যায় সিরাজের কবরে যে প্রদীপটা তিনি জ্বালাতেন, তা যেন ছিল এ দেশের স্বাধীনতার আশা-আকাক্সক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখার এক প্রতীক। বাংলার ভালো শাসকদের বাঁচিয়ে রাখা হয় না। দেশি দালালদের সহযোগিতায় বিদেশি অপশক্তি বারবারই দখল করে নিয়েছে বাংলার মসনদ ও সম্পদ। লুৎফার প্রদীপটা যেন হয়ে ওঠে তাই পরাধীন এক জাতির আশা-আকাক্সক্ষা ও স্বপ্নের প্রতীক।’
নাটকটির শিল্প নির্দেশনা ও আলোক পরিকল্পনায় আছেন উত্তম গুহ, আবহ সংগীত ও শব্দ পরিকল্পনায় সৈয়দ সাবাব আলী আরজু এবং পোশাক পরিকল্পনায় রয়েছেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি। ‘লুৎফার প্রদীপ’ নাটক দিয়ে গত মাসে ঢাকার মঞ্চে যাত্রা শুরু করেছে নাট্যদল সমতল। ৩ জানুয়ারি রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়।
