মৌলভীবাজার-৪ আসন

ময়লার ভাগাড় থেকে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা এনসিপি প্রার্থীর

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২৩ পিএম

মৌলভীবাজার-৪ আসনে ব্যতিক্রমী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শ্রীমঙ্গল শহরের কলেজ রোড এলাকার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থিত পৌরসভার ময়লার ভাগাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ সময় দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইশতেহার ঘোষণার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রীতম দাশ বলেন, শ্রীমঙ্গলবাসীর দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় দুর্ভোগের নাম এই ময়লার ভাগাড়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি মসজিদ ও আশপাশের বসতবাড়ির মানুষ বছরের পর বছর ধরে তীব্র দুর্গন্ধ ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। জনগণের এই বাস্তব কষ্টের জায়গা থেকেই তিনি ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে ইশতেহার ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

নির্বাচিত হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন বলেও আশ্বাস দেন এনসিপি প্রার্থী। তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও আদিবাসীদের ভূমির অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে তাকে ১৩১ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি চা শ্রমিক, আদিবাসী, কৃষক, যুবক ও নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছেন। 

ইশতেহারে প্রীতম দাশ বলেন, তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষ। শ্রমিক, কৃষক, যুবক, নারী ও আদিবাসীসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই তার প্রধান অঙ্গীকার। এতে চা শ্রমিক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

এছাড়া হাওর দখলমুক্ত করে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সবার জন্য মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা ময়লার ভাগাড় অপসারণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও ইশতেহারে গুরুত্ব পায়।

স্বাস্থ্যখাতে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা, চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি, পৌরসভা সম্প্রসারণ, শমসেরনগরকে পূর্ণাঙ্গ পৌরসভায় রূপান্তর, যানজট নিরসনে আধুনিক বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্টেশন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

কৃষকদের জন্য সার, সেচ ও কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, বহুমুখী আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা চালু, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ, প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কমিউনিটি সেফটি নেটওয়ার্ক গঠনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তরুণদের জন্য ওয়ান স্টপ ইয়ুথ সেন্টার ও ডিজিটাল হাব স্থাপন করে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, হোমস্টে ও ইকো-কালচারাল ট্যুরিজম উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের আয় বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রীতম দাশ।

তিনি আরও বলেন, ইমাম, পুরোহিতসহ সকল ধর্মীয় নেতাদের জন্য রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা হবে এবং মসজিদ-মন্দিরসহ সকল উপাসনালয়ের বেদখলকৃত জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শেষে তিনি বলেন, অতীতে বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ অঞ্চল আজও অবহেলিত রয়ে গেছে। সম্ভাবনাময় এই জনপদকে একটি আধুনিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপান্তর করাই তার লক্ষ্য। পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি এলাকাবাসীকে শাপলাকলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত