চেয়ারপারসন হিসেবে নিয়োগলাভের পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। একই সঙ্গে কমিশনের চার কমিশনারও দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
আজ রবিবার রাজধানীর কাওরানবাজারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে মইনুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারপারসন করে জাতীয় মানবাধিকার গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
নবনিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন এর আগে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশনাররা হলেন গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সাবেক সদস্য মো. নূর খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস এবং মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ৬ এর উপধারা (১) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দিয়েছেন।
এদিন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর চেয়ারপার্সন ও কমিশনাররা কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং মানবাধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে আন্তরিকভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া দায়িত্ব গ্রহণের পর চেয়ারপার্সন ও কমিশনারগণ কমিশনের বিদ্যমান কার্যক্রম, প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে অবহিত হন।
গত অভ্যূত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তখন কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ ও অপর সদস্যরা পদত্যাগ করেন। সে বছরের নভেম্বর থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অচলাবস্থা বিরাজ করছিল। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি কমিশনের চেয়ারপার্সন ও কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃত্বে একটি বাছাই কমিটি করা হয়। বাছাই কমিটির সুপারিশে চেয়ারপারসন ও কমিশনার নিয়োগ করা হয়।
