হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধারে বিএনপি জয়ের ছক কষছে জামায়াত

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

পঞ্চগড়ের পাঁচটি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভা মিলে দুটি আসন, যা বাংলাদেশের ১ ও ২ নম্বর আসন হিসেবে পরিচিত। দুটি আসনে একজন স্বতন্ত্রসহ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে পঞ্চগড়-১ আসনে সাতটি দলের সাতজন ও পঞ্চগড়-২ আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পঞ্চগড়ের দুটি আসনই একসময় বিএনপির দখলে ছিল। তবে ২০০৮ সালের পর এ দুটি আসন আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। তবে তিনটি নির্বাচন ছিল প্রহসনের। বিএনপি এ দুটি আসন উদ্ধারের আশা নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে তাদের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে জামায়াত জোট।

তেঁতুলিয়া, সদর ও আটোয়ারী উপজেলা নিয়ে পঞ্চগড়-১ আসন। এ আসনে সাতটি দলের সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দারা হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাসদ মনোনীত ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী নাজমুল হক প্রধান, গণ অধিকার পরিষদের মাহফুজার রহমান, লেবার পার্টির ফেরদৌস আলম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আব্দুল ওয়াদুদ বাদশা ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের সিরাজুল ইসলাম।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সারজিস আলম ও বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী নাজমুল হক প্রধানের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে মনে করছেন ভোটার এবং সমর্থকরা।

২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নওশাদ জমির ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৯ ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করা হয়। এবার তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জনসংযোগ করছেন। নিজের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি।

অন্যদিকে এনসিপি প্রার্থী সারজিস আলমও এলাকায় শুরু থেকেই গণসংযোগ করে আসছিলেন। তিনি দলীয় শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাকে নিয়ে বেশ আগ্রহ রয়েছে। অন্যদিকে ৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত জাসদের নাজমুল হক প্রধান। ৭১, ২৪-কে ধারণ করে তিনি ভোট চাইছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটাররা জানান, এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ উপজেলা) আসনে একজন স্বতন্ত্র, সাতজন দলীয় প্রার্থীসহ আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীকে, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১-দলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে সফিউল আলম সুফি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, জাসদের অধ্যাপক এমরান আল আমিন মোটরকার প্রতীকে, লুৎফর রহমান রিপন লাঙ্গল প্রতীকে, সিপিবির আশরাফুল আলম কাস্তে প্রতীকে, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির দেলোয়ার হোসেন একতারা প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলনের কামরুল হাসান হাতপাখা প্রতীকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন সুমন ঘোড়া প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

এ আসনে নানা কারণে বিএনপির প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ বিতর্কিত। নির্বাচনে এসবের প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন ভোটাররা। যদিও তিনি ও তার নেতাকর্মীরা বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য সফিউল আলম নানা কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা। তিনি শুরু থেকেই প্রচারণায় আছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেন সুমনও একজন শক্তিশালী প্রার্থী। তার বাবা এ আসনে চারবার এমপি ছিলেন। তার বাবার অনুসারীরা ও সাধারণ ভোটাররা সুমনের পক্ষে কাজ করছেন। এ আসনেও ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত