এবারও সরকারি ব্যয়ে হজে যাওয়ার সুযোগ নেই: ধর্ম উপদেষ্টা

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, গত বছর যেমন সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজে পাঠানো হয়নি, চলতি বছরও সেই নীতি বহাল থাকবে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের হজ কার্যক্রম শেষ হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের মধ্যে তিন কোটির বেশি টাকা ফেরত দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরগুলোকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

হজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে ড. খালিদ হোসেন বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর যৌক্তিক ব্যয়ে হজ পালনের জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও দরকষাকষির মাধ্যমে ২০২৫ সালের হজে বিমানভাড়া প্রায় ২৭ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হয়। এ বছরও গত বছরের তুলনায় বিমানভাড়া আরও প্রায় ১৩ হাজার টাকা হ্রাস পেয়েছে। দুই বছরে মোট প্রায় ৪০ হাজার টাকা বিমানভাড়া কমানো একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের হজে যেখানে বিমানভাড়া ছিল এক লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ টাকা, সেখানে ২০২৬ সালের হজে তা কমে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৪ হাজার টাকায়। ভাড়া আরও কমানোর চেষ্টা অব্যাহত ছিল বলেও জানান তিনি।

হজ শেষে অর্থ ফেরতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছর সরকারি মাধ্যমে হজ পালনকারীদের খরচ মেটানোর পর উদ্বৃত্ত ৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হজ এজেন্সিগুলোর অব্যয়িত প্রায় ৩৮ কোটি টাকা, যা সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের আইবিএন হিসাবে জমা ছিল, তা উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

হজ টিম গঠন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, গত বছর সৌদি আরবে হজ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত চিকিৎসক ছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাইরে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একই সঙ্গে টিম সদস্যের সংখ্যাও আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়। এ নীতির ধারাবাহিকতায় এ বছরও সরকারি ব্যয়ে কাউকে হজে পাঠানো হবে না।

২০২৫ সালের হজে নতুন তিনটি সেবার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘লাব্বাইক’ নামের প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল অ্যাপ চালু, মোবাইল ফোনে রোমিং সুবিধা এবং হজ প্রি-পেইড কার্ড চালু করা হয়েছে।

হজ প্যাকেজ নিয়েও পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে ড. খালিদ হোসেন বলেন, গত বছর যেখানে দুটি প্যাকেজ ছিল, এ বছর তা বাড়িয়ে তিনটি করা হয়েছে। সীমিত আয়ের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকার একটি সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত হজ প্রস্তুতি সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে এবং সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমে বাড়িভাড়া, তাঁবু ভাড়া ও পরিবহন চুক্তি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হজ প্যাকেজ-৩–এর ক্ষেত্রে সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হজযাত্রী প্রতি প্রায় ৬০০ সৌদি রিয়াল সার্ভিস চার্জ কমানো হয়েছে। প্রথমে এই প্যাকেজের হাজিদের মক্কায় হারাম শরীফের ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে থাকার পরিকল্পনা থাকলেও যাতায়াতের অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে হাজিরা সহজে যাতায়াত করতে পারবেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারাম শরীফে আদায়ের সুযোগ পাবেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রতি হাজির জন্য দুই সৌদি রিয়াল হারে যে স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি ছিল, দক্ষ দরকষাকষির মাধ্যমে সেটি বিনামূল্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সালের হজ শেষে প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২–এর হাজিদের মধ্যে ৩ কোটির বেশি টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনবল নিয়োগের বিষয়েও তথ্য দেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, শূন্যপদে ইতোমধ্যে ১৬৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মামলাজনিত কারণে আরও ১৯৭ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি, তবে মামলা নিষ্পত্তি হলে দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া বিধি অনুযায়ী নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের ২৯ জন এবং ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের ৩২ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের শূন্যপদে জেনারেল নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত