এনসিপির ৩০টি আসনের ১৪টিতেই ফুটবে শাপলা কলি!

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০২ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি থেকে টানা ২০ দিন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থীরা। এসময়ে সারাদেশে ৩০টি আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীদের প্রচারণায় ভোটারদের মাঝে সাড়া পড়তে দেখা গেছে। পথসভা থেকে জনসভাগুলোতে উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন জরিপ ও মাঠের পরিস্থিতির হিসাব মিলিয়ে বেশ কিছু আসনে ফুটবে শাপলা কলি এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

গণ-অভ্যুত্থানের শক্তি থেকে উঠে আসা তারুণ্য নির্ভর দলটি ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। জোটের পক্ষ থেকে ৩০টি আসন শাপলা কলি প্রতীকের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব আসনে জোটের দলগুলোর পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছে এনসিপি প্রার্থীরা। এছাড়াও তারুণ্য নির্ভর দল হওয়ায় তরুণ ও নারী ভোটারদের ভোট বেশি পাওয়ার প্রত্যাশা করছে দলটি। প্রার্থীদের প্রচারণার সময়ও দেখা গেছে তরুণ ও নারী ভোটারদের আগ্রহ। নির্বাচনী পথসভা ও জনসভাগুলোতেও এই ভোটারদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। এছাড়াও দলটির অভ্যন্তরীণ জরিপ বলছে, তরুণদের দল হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি সিট পাবে বলে এনসিপির জরিপে উঠে এসেছে। নেতাদের প্রত্যাশা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দলীয়ভাবে তৃতীয় অবস্থানে থাকবে।

মাঠের বাস্তবতা ও বিভিন্ন জরিপের তথ্য অনুযায়ী ১৩ থেকে ১৪টি আসনে এনসিপির পক্ষে গণজোয়ারের সুযোগ দেখছে দলটি। এরমধ্যে ১০টি আসনে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, রংপুর-৪ আসনে সদস্যসচিব আখতার হোসেন, কুমিল্লা-৪ আসনে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, নোয়াখালী-৬ আসনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন, কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিকুর রহমান মুজাহিদ (আতিক মুজাহিদ), দিনাজপুর-৫ আসনে ডা. আবদুল আহাদ, নাটোর-৩ আসনে এস এম জার্জিস কাদির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আশরাফ মাহদী, পঞ্চগড়-২ আসনে মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৩টি সংসদীয় আসনের জরিপ প্রকাশ করেছে গবেষণা ও জরিপ প্রতিষ্ঠান ‘সোচ্চার’। এরমধ্যে ঢাকায় এনসিপির দুইটি আসনের সংক্ষিপ্ত ফলাফল জানিয়েছে সংস্থাটি। ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি ১৬ শতাংশ ভোটে এবং ঢাকা-১১ আসনে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছে। ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে মতামত জানিয়েছেন ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ। আর ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের পক্ষে মতামত জানিয়েছে ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ।

ঢাকা-৮ আসনের তরুণ ভোটার আহনাফ বলেন, তরুণদের ও জুলাইয়ের দল হিসেবে অবশ্যই এনসিপির প্রতি আমাদের একটা বড় প্রত্যাশা আছে। আমরা দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন চাই। সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয় এনসিপির প্রার্থীরা অন্য দলগুলোর থেকে তুলনামূলক তরুণ হওয়ায় তারা আমাদের ম্যান্ডেটটা বুঝে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত বলেন, সারা দেশে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে শাপলা কলির প্রার্থীরা। প্রত্যেকটা জায়গায় খুবই শক্ত অবস্থানে আছে, ১২ থেকে ১৩টি আসনে অনেক বেশি শক্ত অবস্থানে আছে। সর্বশেষ প্রচারণার দিন গণমিছিলগুলো, এর আগে জনসভাগুলোতে বিশাল জনসমুদ্র দেখা গেছে। বড় কথা ভোটাররা আমাদের জন্য কাজ করছে, এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা পরিবারের সদস্যদের, বন্ধুদের কাছে আমাদের প্রার্থীদের জন্য ভোট চাচ্ছে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে যে জোটের কারণেও কিছু সুবিধা হয়েছে, যারা জামায়াত ইসলাম ও অন্যদলের আছে আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। আমরা তাদেরকে একটা বড় সাপোর্ট হিসেবে পাচ্ছি। সব মিলিয়ে অধিকাংশ আসনে শাপলা কলির পক্ষে বিপুল গণজোয়ারের প্রত্যাশা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত