অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটা প্রকাশ করেছে। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশের নীতিমালা, ২০২৪’ জারি করা হয়। নীতিমালায় বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি, যারা সরকার বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত, তারা প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখের পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের আয় ও সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন। স্ত্রী বা স্বামীর পৃথক আয় থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে। এ বিবরণী প্রধান উপদেষ্টা নিজ বিবেচনায় উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রকাশ করবেন। আয়কর বিবরণী জমার ১৫ দিনের মধ্যে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে নীতিমালায়। উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ না করায় সমালোচনা চলছিল।
প্রকাশিত বিবরণীতে দেখা গেছে, গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট পরিসম্পদ ছিল ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকার। এক বছর আগে তা ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকা।
সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদি আমানতে বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ার ইত্যাদি কারণে মোট সম্পদ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের মোট পরিসম্পদ ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। সে হিসাবে এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকা।
প্রধান উপদেষ্টাসহ ২৭ জনের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, প্রধান উপদেষ্টাসহ তিনজনের সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের কোনো টিআইএন নম্বর ছিল না। সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলামের সম্পদ বিবরণী নেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তালিকায়।
এদিকে নিজের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক অবস্থার বিবরণ তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার আর্থিক লেনদেন ও অবস্থার যেকোনো ধরনের যাচাই-বাছাই আমি স্বাগত জানাই।’
গতকাল মঙ্গলবার এ পোস্টে তিনি জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তার সম্পদ ও সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেছিলেন। সে সময় তিনি ঢাকার শাহীনবাগে একটি এবং দনিয়ায় বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া আরেকটি ফ্ল্যাট তার মালিকানায় আছে। পাশাপাশি তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই ময়মনসিংহে একটি করে অ্যাপার্টমেন্টের মালিক।
রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকে একটিমাত্র হিসাব থাকার তথ্য দিয়ে শফিকুল লেখেন, ‘যেখানে জমা ছিল ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এই অর্থের একটি বড় অংশ ছিল আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি থেকে পাওয়া গ্র্যাচুইটি, যেখানে আমি ২০০৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত কাজ করেছি। এ ছাড়া আমার নিজ গ্রাম মাগুরায় ৪০ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে।’
নির্বাচনের দুদিন আগে দেওয়া এ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ হয়তো আমার শেষ কর্মদিবস। এই সরকারি দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আমি জানাচ্ছি যে, আমাদের সম্পত্তিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমি এখনো তিনটি ফ্ল্যাটের মালিক, আমার স্ত্রী একটি ফ্ল্যাটের মালিকই আছেন এবং আগের মতোই একই জমির মালিকানা আমার রয়েছে।’ ব্যাংকে জমা স্থিতিতে পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘আমার ব্যাংকে জমা অর্থে সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। আমার এখনো একটি মাত্র ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যেখানে বর্তমানে জমা আছে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৯ লাখ টাকা বেড়েছে।’
এর কারণ ব্যাখ্যায় প্রেস সচিব বলেন, ‘এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো আমার শ্যালক আমার কাছ থেকে নেওয়া সাড়ে ৭ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। পাশাপাশি আমার বড় ভাই রোজায় দরিদ্র গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতরণের জন্য আড়াই হাজার ডলার পাঠিয়েছেন।’ রসিকতা করে তিনি আরও লেখেন, ‘হ্যাঁ, আমার নকল বারবেরি মাফলারটি এখনো আমার কাছেই আছে।’
