স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জানালেন ডা. রফিকুল ইসলাম

জেলা-উপজেলায় সব ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৯ এএম

উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সব ধরনের চিকিৎসা পাওয়া গেলে রোগীদের ভোগান্তি, সময় এবং অর্থের অপচয় রোধ হবে। সেজন্য ক্ষমতায় গেলে চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। গতকাল বুধবার একান্ত আলাপে বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এ কথা জানান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি রোধ করবে বিএনপি। একই সঙ্গে এ খাতে জিডিপি বরাদ্দ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ মতো ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদারের বিষয়ে ডা. রফিক বলেন, পরিকল্পনা আছে লক্ষাধিক জনবল নিয়োগ দেওয়া। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই থাকবে নারী। এর কারণ হচ্ছে, নারীদের মূল্যায়ন করা, কর্মজীবী হিসেবে তাদের শ্রমকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখা।  কারও উচ্চ রক্তচাপ হচ্ছে কি না, ডায়বেটিকস আছে কি না, কোন খাবারে শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে, কোনটাতে কতটুকু পুষ্টিগুণÑ এসব বিষয়ে তারা মানুষকে বোঝাবেন। যাতে রোগ প্রতিরোধ করা যায়। এতে ৮০ হাজার নারী চাকরি পাবেন। তাদের যেমন কর্মসংস্থান হবে, অন্যদের সচেতন করার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ৮০ হাজার পরিবার সচেতন থাকবে।

কমিউনিটি ক্লিনিক থাকবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো কিছু ধ্বংস করার পক্ষে না। যেটা আছে তার মধ্যে ভালো কী আছে, সেটি নিয়ে কাজ হবে। এখানে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মপরিধি আরও স্পষ্ট করা দরকার। এ ক্ষেত্রে রেফারেল সিস্টেম, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবার নিশ্চয়তা, চিকিৎসকসহ সব স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে ন্যায্য অধিকার ও সুরক্ষা, ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

ডা. রফিক বলেন, আরবানে রেফারেল সিস্টেম নেই। গ্রামে কিছুটা আছে, যেমন ইউনিয়ন থেকে উপজেলা জেলায় যায়। জেলা থেকে টার্সিয়ারি লেভেলে চলে আসে। একটা সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসা হবে। যাতে রোগীর ভোগান্তি কম হয়। এখন গ্রাম থেকে যখন বলে দেয়, আপনি ঢাকার অমুক হাসপাতালে যান। কিন্তু গ্রামের সেই রোগী জানেন না, ওই হাসপাতালের কোন বিভাগে, কোন চিকিৎসকের কাছে যাবেন। ঢাকায় এসে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে হয় তাদের। আমরা এমন একটা রেফারেল সিস্টেম গড়ে তুলতে চাই, রোগীদের ঘোরাঘুরি করতে হবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস ইউকের মডেল অনুসারে একটি স্বাস্থ্য মডেলের চিন্তা করছে বিএনপি। বাংলাদেশে যারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন, টিম করে তাদের পরামর্শ নিয়ে এটাকে কীভাবে করা যায় সেই চিন্তা আমাদের আছে।  এতে অপচয় অনেকাংশে কমে আসে। অন্তঃসত্ত্বা মা, নবজাতক ও শিশুদের সব চিকিৎসা যাতে উপজেলায় হয়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। মা ও শিশুর চিকিৎসা স্বল্প বা বিনামূল্যে করা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ চলছে। পুষ্টি ও নারীস্বাস্থ্য সবসময় উপেক্ষিত থাকলেও এ বিষয়টিতে গুরুত্ব দেবে বিএনপি।

জেলায় জেলায় আইসিইউ সেবার ব্যবস্থা করার কথা জানিয়ে ডা. রফিক বলেন, দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে। দক্ষ জনবল তৈরি করে এই সংকট নিরসন করা হবে। কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সমস্যা সমাধানে জেলায় জেলায় ডায়লাইসিস সেন্টার করা হবে। স্বাস্থ্য বীমা নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের পার্টনারশিপ করারও পরিকল্পনা রয়েছে। তখন সরকারি হাসপাতালের হিসেবেই প্রাইভেটে চিকিৎসা করানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত