কেরানীগঞ্জে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ গয়েশ্বরের, ‘ভিত্তিহীন’ বলছে জামায়াত

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই কেন্দ্র দখলের অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নির্বাচনী পরিবেশ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা–৩ (কেরানীগঞ্জ একাংশ) আসনের প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভিযোগ করেন, ভোটের আগের রাতে তাঁর কাছে একাধিক কেন্দ্র নিয়ে অনিয়মের খবর এসেছে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে আরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ভোট দিয়ে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেননি। আজ তাঁরা ভোট দিতে পারছেন। আমরা চাই, প্রত্যেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে এসে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে বিএনপির অনেক অবদান রয়েছে। অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে, সন্তানের বুকের রক্ত ঝরেছে।’

এরপরই তিনি অভিযোগ তোলেন, ‘দুঃখজনক হলেও কেরানীগঞ্জে গতকাল বুধবার সারা রাত অভিযোগ পেয়েছি। রাত ১০টা, ১২টা ও ১টায়, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর লোকজন ভোটকেন্দ্রে ঢুকেছেন। এই ‍মুহূর্ত পর্যন্ত জিনজিরা পি এম পাইলট হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে তাঁদের বের করতে পারে নাই। কেন পারে নাই, কী দুর্বলতা, সেটি দেখতে যাচ্ছি।’

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোট শুরুর আগেই নারী–পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ সারি। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

অন্যদিকে, সকাল সোয়া ৮টার দিকে মুসলিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম। বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রার্থী যে অভিযোগ করছেন, সেটি কি আদৌ সম্ভব? এটি শুনে হাসি পেল। এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ সাধারণ জনগণ কখনো মেনে নেবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সকালে কিছু সমস্যা হয়েছিল। এখন স্বাভাবিক রয়েছে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য প্রশাসন আন্তরিক। আমরা চাই, প্রত্যেক ভোটার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুক। নিজের ভোট যাঁকে খুশি তাঁকে দেবে, সেটি যেন প্রতিষ্ঠিত হয়।’

জিনজিরা, শুভাঢ্যা, আগানগর, কোন্ডা ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা–৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৮। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৪৩ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৭১ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন। এ আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২৬টি।

এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ধানের শীষ), জামায়াতের অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), গণফোরামের রওশন ইয়াজদানি (উদীয়মান সূর্য), গণসংহতি আন্দোলনের মো. বাচ্চু ভূঁইয়া (মাথাল), ইসলামী আন্দোলনের সুলতান আহম্মেদ খাঁন (হাতপাখা), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ জাফর (ডাব), জাতীয় পার্টির মো. ফারুক (লাঙ্গল), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মজিবুর হাওলাদার (মই), গণ অধিকার পরিষদের মো. সাজ্জাদ (ট্রাক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনির হোসেন (ফুটবল)।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত