চট্টগ্রামে বিএনপির জয়জয়কার 

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৫ এএম

চট্টগ্রামে নগর-জেলা সর্বত্র জয়জয়কার বিএনপির। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের মোট ১৬ আসনের মধ্যে মহানগরীর তিনটি আসনসহ ১৪টি আসনেই বজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। মাত্র দুইটি আসনে জয়ের দেখা পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

কোন আসনে কে জিতলেন

চট্টগ্রাম–১ ( মীরসরাই) আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন (ধানের শীষ) ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর ছাইফুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট।

চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। আদালতের নির্দেশনা থাকায় তার ফলাফল স্থগিত রয়েছে।

চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা ৭৩ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আলাউদ্দীন সিকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৬৬২ ভোট।

চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ) ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ার ছিদ্দিক (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। তবে আদালতের নির্দেশনা থাকায় আসলাম চৌধুরীর ফলাফল স্থগিত রয়েছে।

চট্টগ্রাম–৫  (হাটহাজারী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (ধানের শীষ) ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৪০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. নাসির উদ্দীন মুনির (রিকশা) পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭০৮ ভোট।

চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ১ লাখ ১১ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী (মোমবাতি) পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৯৭ ভোট।
চট্টগ্রাম–৭  (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী (ধানের শীষ)। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট।

চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ (ধানের শীষ) ৭৯ হাজার ২০৭ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. আবু নাসের (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৭৪৭ ভোট।
চট্টগ্রাম– ৯ (কোতোয়ালী) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান (ধানের শীষ) ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪০৭ ভোট।

চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং–পাহাড়তলী–খুলশী) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান (ধানের শীষ) ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।

চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে বিএনপি প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (ধানের শীষ) ১ লাখ ১৫ হাজার ২১ পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫২ ভোট।

চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক এনাম ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু (মোমবাতি) পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৯৯ ভোট।

চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজাম ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান (মোমবাতি) পেয়েছেন ৫১ হাজার ৪৫০ ভোট।

চট্টগ্রাম–১৪ চন্দনাইশ–সাতকানিয়া (আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমদ ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এলডিপির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।

চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ ভোট।

চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা (ধানের শীষ প্রতীক) পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জেলার ১০ আসনে জয়ী প্রার্থীদের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।  রিটার্নিং অফিসার ও বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন জিমনেসিয়াম নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নগরী ও নগরীর সাথে সংশ্লিষ্ট ৫ আসনের এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. বেলায়েত হোসেন চৌধুরী চট্টগ্রাম–১১ বন্দর–পতেঙ্গা আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত