ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বড় বিজয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা। সামাজিক মাধ্যম এক্স ও ফেসবুকে মন্তব্য করে এবং টেলিফোনে তারা এ অভিনন্দন জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে বিএনপি ও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। অভিনন্দনবার্তায় মার্কো রুবিও লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), দলটির নেতা তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’
এর আগে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এক এক্স পোস্টে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে তারেক রহমানকে এবং সফল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তান গণতান্ত্রিক অংশীদারত্ব এবং ভবিষ্যৎ যৌথ অগ্রগতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও বিএনপিকে বিশাল বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। নির্বাচনের সফল আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকেও তিনি অভিনন্দন জানান।
শাহবাজ শরিফ বলেন, ঐতিহাসিক, ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে এবং দক্ষিণ এশিয়া ও তার বাইরে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের যৌথ লক্ষ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে তিনি বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
বিএনপি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে জাতীয় সংসদের মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে।
রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের মধ্যে তারেক রহমানকে প্রথম অভিনন্দন জানান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। এ বিষয়টি তুলে ধরে এক ভারতীয় সাংবাদিক এক্সে পোস্ট দেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই ফলাফল আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।
মোদি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারত সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি দুই দেশের মধ্যে বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নরেন্দ্র মোদি পরে তারেক রহমানকে টেলিফোন করেন। টেলিফোন আলাপের বিষয়টি উল্লেখ করে এক্সে আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে পেরে তিনি আনন্দিত। বাংলাদেশের জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণে তারেক রহমানের প্রচেষ্টার বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানান।
মোদি ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও তারেক রহমানকে ‘ভাই’ হিসেবে অভিহিত করে এক্স- পোস্টে অভিনন্দন জানান। বিপুল বিজয়ের জন্য বিএনপিকে ও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলকে অভিনন্দন জানিয়ে মমতা বলেন, ‘সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন। আমাদের সঙ্গে সবসময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।’
মমতা আসন্ন রমজান উপলক্ষেও বাংলাদেশের জনগণকে ‘ভাইবোন’ সম্বোধন করে আগাম অভিনন্দন জানান।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ফেসবুকে এক পোস্টে বিএনপি ও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘এটি গণতন্ত্রের বিজয়। বাংলাদেশের জনগণ কঠিন চ্যালেঞ্জের সময় ব্যালট বাক্সে তাদের কথা বলেছে।’ তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন উদ্যম আনতে নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করার জন্য মালয়েশিয়া উন্মুখ।
আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস ও ব্রিটিশ হাইকমিশন সামাজিক মাধ্যমে আলাদা পোস্টে তারেক রহমান ও বিএনপিকে এবং একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানায়।
ব্রিটিশ হাইকমিশন বলেছে, অভিন্ন অগ্রাধিকার-অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভিবাসন, জলবায়ু ও নিরাপত্তার ওপর একসঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাজ্য উন্মুখ।
এ ছাড়া মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কিও সামাজিক মাধ্যমে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান।
