ফরিদপুর-১

দলীয় কোন্দলে বিএনপির হার, ৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) আসনে প্রথমবারের মতো জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির প্রার্থী প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

এ আসনে আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ছয়জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়নি।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। তার সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থীর ব্যবধান ২৭ হাজার ৬৯৯ ভোটের।

নির্বাচনী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফরিদপুর জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি জয় পেলেও ফরিদপুর-১ আসনে স্থানীয় দলীয় কোন্দল বড় প্রভাব ফেলেছে। তিন উপজেলার নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বিভক্ত থাকায় দলটি পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারেনি।

অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির একটি বিদ্রোহী গ্রুপ মনোনীত প্রার্থীকে হারাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। তারা প্রকাশ্যে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিলেও নীরবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খানের ফুটবল প্রতীকের পক্ষে কাজ করেন। নির্বাচনের দিন ওই গ্রুপের অনেকেই শেষ পর্যন্ত জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন বলে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হন ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম পান ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবুল বাসার খান পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৩৮৭ ভোট, আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গোলাম কবীর মিয়া মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ১৫৯ ভোট, জাতীয় পার্টির সুলতান আহম্মেদ খান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫০৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মৃন্ময় কান্তি দাস রকেট প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট। এনসিপির জেলা আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কৃত মো. হাসিবুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৫৫ ভোট।

এ ছাড়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আব্দুর রহমান জিকো উট প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৪ ভোট। তবে তিনি নির্বাচনের আগের রাতে বিভিন্ন অজুহাতে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছাড়া বাকি ছয়জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, খন্দকার নাসির হারেননি, তাকে হারানো হয়েছে। ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপিকে পরিকল্পিতভাবে পরাজিত করা হয়েছে। বিদ্রোহী গ্রুপ ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীর কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে শেষ পর্যন্ত জামায়াতকে ভোট দিয়েছে। তারা শুধু বিএনপির সঙ্গেই নয়, ফুটবল প্রার্থীর সঙ্গেও বেঈমানি করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত