স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১০ এএম

ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রথম ছয় মাস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না। অতি স্পর্শকাতর এ মন্ত্রণালয়ে প্রথম ছয় মাস স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে মন্ত্রীকে। চাপ দেওয়াও যাবে না, নেওয়াও যাবে না। একজন দক্ষ-অভিজ্ঞ ও সৎ রাজনীতিকের অধীনে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে। তা না হলে ভীষণ কঠিন কাজ হবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন করার এ কাজটি।

দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাছে এসব প্রত্যাশা-পরামর্শ রাখেন তারা। তারা বলেন, এ মন্ত্রণালয় অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মিশেলে। বিচক্ষণ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন ঘটাতে চারটি করণীয় দ্রুততার সঙ্গে করতে হবে নতুন সরকারকে।

নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন লাভ করা বিএনপি তাদের ইশতেহারে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিএনপির অগ্রাধিকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করা। দেশের সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করবে, এটাই হবে আমাদের সরকারের অন্যতম কাজ। সবচেয়ে প্রাধান্য দেব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে।

এ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনীকে চৌকস বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বাহিনীর সদস্যদের ধসে পড়া মনোবল ফেরাতে হবে সর্বাগ্রে। এজন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে সরকারের প্রথম দিকেই। তিনি বলেন, সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলার সংস্কৃতি চালু করতে হবে এখানে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকেই দুর্বৃত্তকে দুর্বৃত্ত বলার সাহস দেখাতে হবে।

তিনি বলেন, অন্তত প্রথম ছয় মাস হস্তক্ষেপ করা যাবে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ও মন্ত্রীর ওপর। মন্ত্রীর চেয়ারে একজন সৎ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি বসাতে হবে। দলমত নির্বিশেষে অভিজ্ঞতা, মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে চৌকস বাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে নতুন সরকারকে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মো. মনিরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলার ব্যাপার নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করুক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য শুনি, জানি। মন্তব্য করব দেখেশুনে। তিনি বলেন, এ মন্ত্রণালয় বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও অতি স্পর্শকাতর।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার বদ্ধপরিকর। শপথ নেওয়ার পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু কাজ আমাদের করতেই হবে। সেগুলো ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিকল্পনাও সাজানো হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিএনপির সরকারের অন্যতম প্রায়োরিটিতে রয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট হবেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। ইনশাআল্লাহ কারও মধ্যে কোনো উদ্বেগ থাকবে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আ ল ম ফজলুর রহমান এ প্রসঙ্গে দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রাধান্য দেওয়া নয়, চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপযুক্ত ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে। যার দক্ষতা-অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন নেই। এর কোনো বিকল্প নেই। দ্বিতীয়ত পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবিসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সব বাহিনীকে মোটিভেশন দিয়ে মনোবল চাঙ্গা করতে হবে। তৃতীয়ত জনবল ঘাটতি দ্রুত সময়ের মধ্যে পূরণ করতে হবে। সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দায়িত্ব পালনে সংযুক্ত করতে হবে। চতুর্থত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অবসরপ্রাপ্ত যেসব কর্মকর্তাকে বসানো হয়েছে, তাদের সবাইকে বের করে দিয়ে, নিচ থেকে পদোন্নতির ব্যবস্থা করে কাজে লাগাতে হবে বাহিনীগুলোতে।

তিনি বলেন, সর্বশেষ যেটি গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে তা হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনসম্পৃক্ত করতে হবে। সারা দেশে গণমান্য ব্যক্তিবর্গ দিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিটি করে দিতে হবে। যত বেশি জনসম্পৃক্ত করা যাবে এ ক্ষেত্রে তত বেশি সুফল আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত