বরণে প্রস্তুত সচিবালয়

প্রধানমন্ত্রীর রুম নম্বর ২০১

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৯ এএম

নতুন ভবনে আসবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। সে প্রস্তুতিই সম্পন্ন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দ্বিতীয়তলায় ২০১ নম্বর কক্ষটি প্রস্তুত করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য। এটি অনেকটাই নিশ্চিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই ভবনের কক্ষটিতে আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন, ২০০ নম্বর কক্ষটি সভাকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আর তার পাশেই ২০১ নম্বর কক্ষটি প্রস্তুত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য। নতুন করে এয়ার ফ্রেশনার দিয়ে সুগন্ধময় করা হয়েছে কক্ষটি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত প্রসাধনসামগ্রীর বর্ণনা অনুযায়ী প্রসাধনীরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাচনের গেজেটের পরই তুমুল ব্যস্ততা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। নতুন ভবনের ছয়টি লিফটের সবকটিই ছিল ব্যস্ত। কর্মকর্তারা এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে উঠছেন, নামছেন। সবার হাতেই ফাইল। রেওয়াজ ভেঙে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হবে মন্ত্রিসভার শপথ। আর সেই শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা। মন্ত্রীদের গাড়িতে ব্যবহার্য পতাকার মাপ সঠিকভাবে করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় মোবাইল ফোনে।

কর্মকর্তারা জানান, নতুন প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের বরণ করে নিতে কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। মন্ত্রীদের বহনের গাড়ি, তাদের বাসভবন সবই প্রস্তুত করা হয়েছে। ২০০১ সালের মতো এবারও ৫০ জন মন্ত্রী হিসাব করে প্রস্তুতি নিয়েছে তারা। কর্মকর্তারা বলেন, এর চেয়ে বেশি হলে ঝামেলায় পরে যাব। কম হলে অসুবিধা নেই। তারা বলেন, আশা করি মন্ত্রিসভার আকার ৫০-এর বেশি হবে না।

কর্মকর্তারা জানান, শপথ প্রক্রিয়া সফল করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ১০০ জন কর্মকর্তা কাজ করছেন। নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি নিজেই যুক্ত হয়ে সব কাজ তত্ত্বাবধান করছেন।

তারা জানান, মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকা পাওয়ার পর তাদের জন্য যে সহায়তা লাগে, যেমন একজন মন্ত্রীর জন্য একটি গাড়ি লাগে, একজন দেহরক্ষী থাকে, তার বাসস্থানের ব্যবস্থা ও তার সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রীর অফিসকে জানাতে হবে। মন্ত্রীর কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। মন্ত্রিপরিষদকে এসব প্রস্তুত করে রাখতে হয়।

কর্মকর্তারা বলেছেন, আজ মঙ্গলবার সংসদ সদস্যদের শপথের পরই মন্ত্রীদের নামের তালিকা পাঠানো হবে মন্ত্রিপরিষদে। তখনই সবার ঠিকানায় গাড়ি পাঠানো হবে। এরই মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে মন্ত্রীদের গাড়ির চালকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র ও বিএনপি বলছে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়টি নিজেই দেখছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় ২০০১ সালের সরকারের সাবেক মন্ত্রী, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নতুন মুখ সবাইকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ অন্তত পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে পারেন।

বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। তবে সে প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। এখন তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মির্জা আব্বাস এবং সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আবারও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব দক্ষ, যোগ্য ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে বিএনপি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত