বগুড়ায় ৩শ’ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী খাউড়া মেলা বা ছোট সন্ন্যাসী মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের জালশুকা খাউড়া দহ এলাকায় এ মেলা শুরু হয়।
এবারের মেলায় ছোট বড় প্রায় তিন শতাধিক দোকান বসেছে। বিকেলে মাছের মেলায় গিয়ে দেখা মেলে নানা প্রজাতির বড় বড় আকারের মাছ।
মেলাকে কেন্দ্র করে জালশুকা, চান্দাই, নারিল্যা, খোট্টাপাড়া, বলদিপালান, চাঁচাইতারাসহ আশ পাশের ২০টি গ্রামে দ
প্রতিটি বাড়ি আত্মীয়-স্বজনে ভরে উঠেছিল।
এই মেলারও প্রধান আকর্ষণ থাকে বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ। তাই কিছুটা ভীড় বেড়েছে খাউড়া মেলায়। এ মেলায় বিশেষ করে বাঘাইড়, বোয়াল, কাতলা, রুই, বিগ হেড, ব্লাড কার্প মাছ কিনতে অনেকেই সারা বছর অপেক্ষা করে মেলার এই দিনটির জন্য।
মেলায় সবচেয়ে বড় ৩০ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের বাঘাইড় মাছ বিক্রি হয়েছে ৩৬ হাজার টাকায়। এছাড়া কাতলা আকার ও ওজন ভেদে কেজি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, বিগ হেড ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ব্লাড কার্প ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা, কার্প ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, সিলভার ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং আইড় ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা।
এবারের মেলায় বিক্রয় নিষিদ্ধ বাঘাইড় মাছ নিয়ে এসেছেন গোলাবাড়ি বাজারের আইনুর নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, শুধু পোড়াদহ মেলায় এই বাঘাইড় মাছ বিক্রি বন্ধ আছে। আর এবার তো পোড়াদহ মেলা হয়নি, কোন নিষেধও নাই। তাই অন্য সব মেলায় বাঘাইড় বিক্রি করতে কোন অসুবিধা হয় না। সারিয়াকান্দি যমুনা নদী থেকে ধরা এই ৩০ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের মাছ ১১৫০ কেজি দরে ক্রয় করে ৩৬ হাজার টাকায় মেলায় বিক্রয় করলাম।
সারিয়াকান্দির মাছ ব্যবসায়ী নিতাই বলেন, রোজার আগের দিন তাই জামাইজিদের দাওয়াত করেনি অনেকে, এজন্য বেচে কেনা কিছুটা কম। প্রচুর মাছ আছে মেলায় সকালে দাম বেশি হলেও বেলা গড়াতেই দাম কমে বিক্রি হচ্ছে।
দিনাজপুর থেকে আসা জালশুকা গ্রামে জামাই আব্দুল মজিদ জানান, ২০ বছর ধরে এ মেলায় আসেন। শ্বশুরবাড়ি থেকে কিছু টাকা পান, তার সাথে আরও নিজের টাকা দিয়ে মাছ মিষ্টি নিয়ে সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া আনন্দ করেন।
মাছের পাশাপাশি মেলায় ছিল হরেক রকমের বাহারি মিষ্টি, খেলনা, চুরি-ফিতা, সংসারের ব্যবহার্য লোহার সামগ্রী, কাঠের আসবাবপত্র, হলুদ, পান খাওয়ার চুনসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী।
এবার মেলায় ৩ কেজি ওজনের মাছ আকৃতির মিষ্টি বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। মেলার আয়োজকরা জানান, একদিনে এই মেলায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ কেনাবেচা হয়।
মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানালেন ট্রাম্প