এলডিসি উত্তরণ পেছাতে আগ্রহী সরকার

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩০ এএম

সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটবে। তবে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এলডিসি উত্তরণ যেন তিন থেকে ছয় বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের অনীহা থাকলেও নির্বাচিত সরকার গুরুত্বসহ দেখছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

গতকাল বুধবার দায়িত্ব গ্রহণের পর সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি তিন বছরের জন্য হতে পারে। এ সময় তিনি রমজান মাসে বাজার পরিস্থিতি, রপ্তানি আয় বিষয়ে কথা বলেন। তার সঙ্গে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রমজান মাস উপলক্ষে বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজানের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে। পণ্য নিয়ে ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তিনি বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। রমজান মাস ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের হাতে রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

এ সময় বাজার সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি শুধু বক্তব্য দিতে চান না; বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। রমজানের শুরুতে চাহিদা বৃদ্ধির ফল কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। মানুষ সাধারণত পুরো মাসের জন্য একসঙ্গে বাজার করে, ফলে হঠাৎ করে ভোগ বৃদ্ধি পায় এবং এর সাময়িক প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে।

অন্যদিকে রপ্তানির সাম্প্রতিক নিম্নগতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। বর্তমানে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্য থেকে আসে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন পণ্য যুক্ত করে রপ্তানি বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগে আগ্রহী বেসরকারি উদ্যোক্তাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার হবে বলে তিনি জানান।

বিশ^বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভুল করার সুযোগ খুবই সীমিত। নীতিগত ভুল বা দীর্ঘস্থায়ী বৈদেশিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা দেশের নেই। তাই গত কয়েক মাসে যে মন্থর পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে কোনো বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগের প্রধান শর্ত হলো স্থিতিশীল পরিবেশ। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চিত হতে হয় যে তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে যুক্তিসংগত মুনাফা পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে বড় একটি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। দুই থেকে তিন বছর ধরে বিনিয়োগ স্থবির থাকায় অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

রমজানের বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পরই রমজান মাস আমাদের সামনে এসেছে। বিষয়টি মন্ত্রিসভায়ও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে নতুন কোনো পরিকল্পনা করার সময় আমাদের হাতে নেই। আগের ব্যবস্থাপনায় যে প্রস্তুতি ছিল, সেটিকে ভালোভাবে পরিচালনা করারই এখন লক্ষ্য। তবে বাজার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আজ (গতকাল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে থেকে সব জেলা-উপজেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনোভাবে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি না পায়। বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বসহ তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। আশা করছি, ব্যবসায়ীরা পবিত্র মাসের গুরুত্ব বিবেচনায় সাধারণ মানুষের সেবায় পাশে থাকবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত