বিচারককে লক্ষ্য করে এজলাসে পাথর নিক্ষেপ

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০২ এএম

আদালত চলাকালে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারককে লক্ষ্য করে একজন পাথর ছুড়ে মেরেছে এক উগ্রবাদী। এ ঘটনায় বিচারাঙ্গনে দেখা দেয় আতঙ্ক। নিক্ষিপ্ত পাথরটি বিচারকের সামনের মোটা কাচ ভেঙে ভেদ করে তার পাশে গিয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ আদালত কক্ষের বাইরে পাহারায় থাকা পুলিশ পাথর নিক্ষেপকারীকে আটক করে। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটে। বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় মুহূর্তে থমকে যায় আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও আদালত সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবী মেহেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মারুফ আহমেদ বিজন জানান, বিচার চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে জানালার কাচ ভেঙে একটি পাথর এজলাস কক্ষের ভেতরে এসে পড়ে। পাথরটি আদালতের বাইরের বারান্দা থেকে সজোরে ছুড়ে মারা হয়। এ ঘটনায় এজলাসে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তৎক্ষণাৎ আদালতের বারান্দায় দায়িত্বরত কোর্ট পুলিশের সদস্যরা পাথর নিক্ষেপকারী শরীফকে হাতেনাতে আটক করা ফেলেন। তিনি মেহেরপুর শহরের নতুন শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত রেজাউল করিমের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিকে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে বিচারকের সামনে হাজির করা হলে তিনি নিজেকে ‘উগ্রবাদী’ দাবি করে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যে জানান, চলমান বিচারব্যবস্থা কোনো বিচার নয়। তিনি ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তাদের না পেয়ে আদালতে প্রবেশের অনুমতির চেষ্টা করেন। সেটাও ব্যর্থ হলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এজলাস লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন।

অভিযুক্ত আরও বলেন, ইসলামের সঠিক নিয়মে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামি আদর্শ অনুসরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি মরলে শহীদ হব। এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে ইসলামিক উগ্র চিন্তাধারার বক্তব্য দিতে থাকেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিচারকের নির্দেশে অভিযুক্তকে আদালতের হাজতখানায় পাঠানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত