এবার শ্রীলঙ্কাও জিম্বাবুয়ের শিকার

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ এএম

স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে চমকের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে জিম্বাবুয়ে। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেওয়ার পর এবার শ্রীলঙ্কাও ধরাশায়ী জিম্বাবুয়ের কাছে। ৭ পয়েন্ট নিয়ে বি গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে। এর মাধ্যমে ১০ বছর পর ভারতে খেলতে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আর ভারতে খেলা হয়নি আফ্রিকান দলটির।

কলম্বোতে টস জিতে বোলিং নেন লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা পাথুম নিশাঙ্কার ৬২, পবন রতœায়েকের ৪৪ আর দুনিথ ওয়েলেলাগের ১৫ রানের ক্যামিওতে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৮ রান। জোড়া শিকার ব্লেসিং মুজারাবানি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা আর গ্রায়েম ক্রেমারের। ১৭৯ রান তাড়া করতে নেমে ব্রায়ান বেনেটের ৪৮ বলে অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংসের সঙ্গে সিকান্দার রাজার ২৬ বলে ৪৫ রানে ৩ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের দেখা পায় জিম্বাবুয়ে।

শেষ ৬ ওভারে জয়ের জন্য ৬৫ রান দরকার ছিল জিম্বাবুয়ের। উইকেটে হাফসেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকা বেনেট আর মাত্রই ব্যাটিংয়ে আসা সিকান্দার। দুষ্মন্ত হেমন্তের করা ম্যাচের ১৫তম ওভারে দুটো ছক্কা আর একটা চার মারলেন রাজা, ওভারে এলো ২০ রান। পরের ওভারেও মাহেশ থিকশানার বলে রাজার একটা করে চার ও ছয়, ওভারে এলো ১২ রান। ঘুচে আসতে লাগল স্বপ্ন আর সাফল্যের ব্যবধান। মাদুশঙ্কার করা পরের ওভারে ছক্কা মেরে শুরু রাজার, শেষ বলে বেনেটের চার। ১৮তম ওভারটা ওয়েলেলাগে একটু আঁটসাঁট বোলিং করেছেন, কোনো চার-ছয় হজম করেননি, রান দিয়েছেন মাত্র ৬। তবে কোনো ডট বল নেই, নিয়ম করে প্রতি বলেই প্রান্ত বদল করেছেন রাজা আর বেনেট। ১৯তম ওভারে জোড়া উইকেট পতন, দ্বিতীয় বলে সোজা এক্সট্রা কাভারে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট রাজা আর পঞ্চম বলে শানাকার অসাধারণ ক্যাচে মুসেকিওয়ার বিদায়। কলম্বোর দর্শকরা তখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, খেলার ভাগ্য ঘুরে গেছে স্বাগতিকদের দিকেই। শেষ ৬ বলে জিম্বাবুয়ের জিততে লাগে ৮ রান, বল করতে এলেন থিকশানা। প্রথম বলেই মুনিয়াঙ্গা মেরে দিলেন ছয়! তাতেই উত্তেজনার অবসান। পরের বলে সিঙ্গেল আর বেনেটের জয়সূচক বাউন্ডারিতে ৩ বল আগেই জয় নিশ্চিত জিম্বাবুয়ের।১৯.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮২ রান করে গ্রুপের শীর্ষে সিকান্দার রাজার দল। জয়ের পর অধিনায়কের বক্তব্যে রাজা বলেছেন, কেউ তাদের গুণতিতেই ধরেনি, অথচ এখন তারা সুপার এইটে, ‘আমাদের দৃষ্টি সবসময় সামনের দিকে। আমি যদি বর্তমানের দিকে তাকাই, তবে আমার মনে হয় না কেউ আমাদের সুযোগ দেবে বলে ভেবেছিল। সবার ভালোবাসা এবং সম্মান জেতার জন্য এটি একটি দারুণ অবস্থান।’ এক দশক পর জিম্বাবুয়ের ভারতের মাটিতে খেলা প্রসঙ্গে বলেছেন ‘আমরা ২১ তারিখে (ভারতে) পৌঁছাব, ২২ তারিখে অনুশীলন করব এবং তারপরই আসল লড়াই শুরু, যা হওয়ার তা-ই হবে। আমরা যদি তিনটির মধ্যে দুটি ম্যাচ জিততে পারি, তবে কে জানে কী হতে পারে! সবাই তো আন্ডারডগদের রূপকথার গল্পই ভালোবাসে।’ অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর কে হতে পারে জিম্বাবুয়ের পরবর্তী লক্ষ্য? তাদের পরের খেলা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মুম্বাইতে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত