সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ

ঋণ পরিশোধ করেই দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নেন

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৫ এএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপির প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্য কোনো না কোনোভাবে ঋণের সঙ্গে জড়িত। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার আগে নিজের ঘর ঠিক করতে হবে। ঋণ পরিশোধ করেই দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নেওয়া উচিত। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলা মোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও নিজেদের মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্যদের ঋণ পরিশোধের বিষয়টি কবে নিশ্চিত করা হবে এ প্রশ্নের জবাব জনগণ জানতে চায়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচন ছিল হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের পর অর্জিত একটি প্রক্রিয়া। সবার প্রত্যাশা ছিল, এ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগোবে, রাষ্ট্র সংস্কার সম্পন্ন হবে, ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত হবে এবং আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়ে দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনের ভিত্তি গড়ে উঠবে। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হলেও ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা ফলাফল মেনে নিয়েছেন এবং জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করতে শপথ নিয়েছেন। কিন্তু সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলেও অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, এ নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের যোগসাজশ হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকের বিনিময়ে যদি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করা হয়, তাহলে জনগণ প্রতিরোধ করবে। সরকার ব্যর্থ হলে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। এটা অব্যাহত থাকলে আমরা রাজনৈতিক প্রতিরোধের ডাক দেব। এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, সারা দেশে জেলায়, উপজেলায় বিচার চলমান আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা হচ্ছে। আর মিডিয়া উৎসবের সঙ্গে সেসব প্রচার করছে এবং উৎসাহ দিচ্ছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই মন্ত্রিসভার গড় বয়স ৬০। তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের প্রতিফলন মন্ত্রিসভায় হয়নি। প্রায় ৬২ শতাংশ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ী, যেখানে রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন ছিল। তার দাবি, এসব ব্যবসায়ীর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ঋণখেলাপি রয়েছেন। মন্ত্রিসভা গঠনে নতুনত্বের অভাবের কথাও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বড় বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এমন একজনকে দেওয়া হয়েছে, যিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং হত্যা মামলার আসামি। ব্যবসায়িক স্বার্থে হত্যাকা-ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দলীয়ভাবে তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ কেউ না হলেও আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবের কারণেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এ মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক বৈষম্য করা হয়েছে। দেশের অনেক বৃহত্তর অঞ্চল থেকে মন্ত্রী করা হয়নি। একই সঙ্গে এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি। নারী ও সংখ্যালঘু থেকে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের আকাক্সক্ষা পূরণ করতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে নইলে জনগণের প্রত্যাশা আরও ভেঙে পড়বে।

সংসদ অধিবেশন নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, আমরা বিএনপিকে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানাই। এরপর দ্রুতই সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত