মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় ধাক্কা খাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ছয় বিচারপতির বিরুদ্ধে তীব্র ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাতিল করে আদালতের দেওয়া রায়কে তিনি 'গভীরভাবে হতাশাজনক' বলে মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রায়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্ককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। আদালত জানায়, প্রেসিডেন্টের একতরফাভাবে যেকোনো দেশের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের স্বাভাবিক বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা নেই।
রায় প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই ট্রাম্প বিচারপতিদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'আদালতের কিছু সদস্যের জন্য আমি লজ্জিত। দেশের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস তাদের ছিল না।' সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের সঙ্গে একমত হওয়া বিচারপতিদের 'সম্পূর্ণভাবে লজ্জিত হওয়া উচিত' বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক রীতি-নীতিকে প্রায়ই উপেক্ষা করা এবং সমালোচকদের প্রকাশ্যে তিরস্কার করার জন্য পরিচিত ট্রাম্পের এ মন্তব্যকে অনেকেই নজিরবিহীন বলে মনে করছেন। তিনি প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে রায়টির সমালোচনা করেন এবং জানান, অন্যান্য উপায়ে শুল্ক আরোপ অব্যাহত রাখার পথ খুঁজবেন। তবে পুরো বক্তব্যজুড়েই বিচারপতিদের প্রসঙ্গে বারবার ফিরে গিয়ে তিনি ব্যক্তিগত ক্ষোভের ইঙ্গিত দেন।
রায়ে ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ছয় বিচারপতি আদালতের উদারপন্থী ও রক্ষণশীল—দুই পক্ষ থেকেই ছিলেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লিখেছেন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের মনোনীত। এছাড়া ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া বিচারপতি নিল গরসাচ ও এমি কোনি ব্যারেট রায়ের পক্ষে ছিলেন।
রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট মনোনীত—কাউকেই ছাড় দেননি ট্রাম্প। রায়ের জন্য তিনি সকল সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকেই দায়ী করেন এবং তাদের সিদ্ধান্তকে দেশের স্বার্থবিরোধী বলে আখ্যা দেন।
