সরকার বদলের পর ভালো ব্যবসায়ের আশা কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম

রমজানের প্রথম সপ্তাহ চলছে। কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীতে চলছে শেষ সময়ের চলতি ঈদ মৌসুমের ব্যস্ততা। পোশাক পল্লীর কয়েক লাখ শ্রমিক এখন শেষ সময়ের পোশাক তৈরি ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারখানাগুলোতে চলতি মৌসুমের চাহিদা মেটাতে তৈরি হচ্ছে হরেক রকমের, হরেক ডিজাইনের শার্ট, প্যন্ট, পাঞ্জাবি, ফ্রকসহ বাচ্চাদের নানান ডিজাইনের বাহারি পোষাক।  কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর বিভিন্ন মার্কেটের শোরুমগুলোতে ঝুলছে বাহারি রকমের ঈদের পোষাক। চলতি মাসে নতুন সরকার গঠনের পরে এই বছর ঈদ মৌসুমে ভালো ব্যবসা হবে এমন প্রত্যাশা নিয়েই পোষাক তৈরিতে ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর ব্যবসায়ী ও পোষাক শ্রমিকরা। 

সরেজমিনে কেরানীগঞ্জ পোশাক পল্লীর বেশ কয়েকটি কারখানায় ঘুড়ে দেখা যায়, নাওয়া খাওয়া ভুলে পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার পোষাক কারিগররা। কারখানাগুলোতে এক সঙ্গে চলছে কাপড় কাটা, কাপড় সেলাই করা ও পোষাক তৈরির পরে তা প্যাকেটিং করার কাজ। কারিগরদের চোখে মুখে কাজ করার আনন্দের ছাপ, কারো চোখে বা কাজে ক্লান্তির কোন চিহ্ন নেই।

শ্রাবনী আক্তার আশা নামে এক পোষাক শ্রমিক জানান, আমি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কালিগঞ্জের কয়েকটি পোষাক কারখানায় কাজ করেছি, গত কয়েক বছর দেশের নানান ঝামেলার কারনে মহাজনরা ঠিক মতো পোষাক বেচা কেনাও করতে পারেনি। মহাজনরা কম পুঁজি বিনিয়োগের কারণে আমরাও তেমন পোষাক বানাতে পারি নি। এ বছর নতুন সরকার আইসে, সবাই আশা করছি বেচাকেনা ভালো হবে। তাই আমরা ডিউটির পরেও ওভারটাইম করছি। 

ওয়ান ম্যান শার্ট কারখানার মালিক আমির হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ থাকায় আমাদের বেচাকেনা কম হয়েছে, এবার তো নতুন সরকার আসছে। আশা করছি গত কয়েক বছরের চেয়ে অনেক ভালো হবে বেচা বিক্রি, তাই আমরাও সেই আশায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।

নিউ ফ্যাশন কারখানার মালিক মো. ইয়াসিন জানান, গত কয়েক বছরে গার্মেন্টস পল্লীতে পাঞ্জাবির কদর বেড়েছে। গত বছর আমাদের পাঞ্জাবি কম বিক্রি হয়েছে। এ বছর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল। নতুন সরকার আসছে সুতরাং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও চাঙা হবে। সেই আশায় আমরা ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। গত বছর আমি ৮ হাজার পাঞ্জাবি বিক্রি করেছি। এ বছর ১২-১৪ হাজার পাঞ্জাবি বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন জানান, ‘দেশের তৈরি পোশাকের ৭০ ভাগের চাহিদা আমরা কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লী থেকে মিটিয়ে থাকি। রমজানের ব্যবসাটাই মূলত এখানের মূল সিজন। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় গত কয়েক বছর ভালো ব্যবসা না হলেও, এবার নির্বাচিত সরকার আসায় গার্মেন্টস পল্লীতে রেকর্ড পরিমাণ বেচাবিক্রি হবে। ১০ রোযায় বেচাবিক্রি প্রতিবার শেষ হয়ে গেলেও এবার ২০ রমজান পর্যন্ত বেচাবিক্রি থাকবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত