পাল্লেকেলের বাতাসে ছিল বৃষ্টির গন্ধ। অধিনায়ক দাসুন শানাকা কি ভেবেছিলেন, সেই বৃষ্টি সময়মতো না এসেই তার সর্বনাশটা করে দিল! সুপার এইটে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৫১ রানে হেরে গেছে শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডকে ১৪৬ রানে আটকে দেওয়ার পর শ্রীলঙ্কা অলআউট হয়ে গেছে ৯৫ রানে। বড় হারে নেট রানরেটে লেগেছে বড় ধাক্কা, গ্রুপে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বর জায়গা থেকে শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করাটা এখন খুবই কঠিন স্বাগতিকদের জন্য।
অথচ ম্যাচের প্রথম ইনিংসের পর মনে হচ্ছিল, লক্ষ্যটা আয়ত্তের ভেতরই আছে শ্রীলঙ্কার। শানাকা টস জিতে আগে বোলিং নিয়ে ইংল্যান্ডকে আটকে রাখলেন দেড়শর নিচে। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ফিল সল্ট কিছু রান করেছেন, ৪০ বলে ৬২। ইংল্যান্ডের ৪ ‘বি’, বাটলার, ব্রুক, ব্যান্টন আর বেথেল তাদের সম্মিলিত অবদান ৩০ রান! তাতে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকেরই ১৪। শেষ দিকে উইল জ্যাকস ২১ আর বাকিরা কেউ কেউ ১০, ১১ করে করায় শেষ পর্যন্ত ইংরেজদের রানটা ভদ্রগোছের চেহারা পায়। ৪ ওভারে ২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন দুনিথ ওয়েলেলাগে, জোড়া শিকার মাহেশ থিকশানা আর দিলশান মাদুশঙ্কার।
পাতুম নিশাঙ্কা শুরুটা করেছিলেন ভালোই। কিন্তু কী যে হলো হঠাৎ, ফ্লিক করে মিড উইকেটে মারলেন উড়িয়ে আর বলও গেল ফিল্ডার বরাবর। জোফরা আর্চারের বলে জেমি ওভারটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৯ রান করে আউট হয়ে গেলেন নিশাঙ্কা। শ্রীলঙ্কারও যেন মড়ক লাগল। দলীয় ১৫ রানে নিশাঙ্কা, ২০ রানে উইল জ্যাকসের পরপর দুই বলে কুশল মেন্ডিস এবং পবন রতœায়েকের পর ২২ রানে কামিল মিশ্রা, বিনা উইকেটে ১৫ থেকে ২২ রানে ৪ উইকেট নেই শ্রীলঙ্কার। বল হাতে সাফল্য পাওয়া ওয়েলেলাগে নিজেই তখন জ্যাকসের স্পিনের শিকার, ৩৪ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন শ্রীলঙ্কার। বাকিটা আসলে আসা যাওয়ার গল্প। শ্রীলঙ্কাকে তাদেরই মাটিতে স্পিনে মাত করে দিল ইংল্যান্ড। উইল জ্যাকসের ৩, লিয়াম ডসনের ২ আর আদিল রশিদের দুই, ৩ স্পিনার মিলে নিলেন ৭ উইকেট। সঙ্গে আর্চারের ২ আর ওভারটনের একটি, যদিও সেটা হিট উইকেট। এই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় হিট উইকেট আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম। ওভারটন ওভারের শেষ বলটি করেন শর্ট পিচ, এবং ৮ নম্বর দুশান হেমন্তকে স্টাম্পের দিকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য করেন। বলটা শরীরে লাগে তার, এরপর আনমনেই নিজের ব্যাটটি পেছনে ঘুরিয়ে উইকেট ভেঙে ফেলেন।
১৬.৪ ওভারে ৯৫ রানে অলআউট শ্রীলঙ্কা। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেওয়ার পর উড়তে থাকা শ্রীলঙ্কাকে মাটিতে নামিয়েছিল জিম্বাবুয়ে আর ইংল্যান্ড রীতিমতো বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে দিল বলতে গেলে। হারের পর শানাকা বলেছেন, ‘সত্যিই হতাশাজনক, তবে বোলিংয়ে আমাদের অনেক ইতিবাচক দিক ছিল। আমরা তাদের এই মাঠের গড় স্কোরের চেয়েও ২০ রান কমে আটকে রেখেছিলাম। আমরা ব্যাটিং খারাপ করেছি। এমন না যে তারা খুব দুর্দান্ত বোলিং করেছে, বরং আমরাই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলেছি।’ এই পাল্লেকেলেতেই হ্যারি ব্রুকের দল দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে ৩-০ তে হারিয়েছিল বিশ্বকাপের আগে আগে। এবারও একই ফল, জন্মদিনে এর চেয়ে ভালোপ উপহার আর হয় না, এটাই বললেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক, ‘জন্মদিনের চমৎকার এক উপহার, দারুণ এক প্রচেষ্টায় ওদের ১০০ রানে অলআউট করে জয় পাওয়া। আমার মনে হয় না পিচে কোনো জুজু ছিল; দুপক্ষের স্পিনাররাই বলের গতির হেরফের খুব ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে, পেসের অভাবই আসলে সুযোগ তৈরি করছিল। আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি এবং পরিস্থিতির সঙ্গে খুব দ্রুত মানিয়ে নিয়েছি।’ বিশ্বকাপের আগে এখানে খেলে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটা কাজে দেওয়ার কথাও বললেন ব্রুক, ‘আমরা এখানে অনেক খেলেছি এবং জানতাম যে স্পিন একটা বড় ভূমিকা রাখবে।’
মঙ্গলবার একই ভেন্যুতে ইংল্যান্ড খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে, শ্রীলঙ্কা পরের ম্যাচটা খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।