৫০০ কুমিরের নদীতে অলিম্পিক রোয়িং ইভেন্ট

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

২০৩২ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমসের রোয়িং ও ক্যানোয়িং ইভেন্টের জন্য নির্ধারিত ভেন্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিস্ময়। প্রতিযোগিতার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ফিটজরয় নদীকে, যেখানে বাস করে প্রায় ৫০০টি বিশালাকার লোনা জলের কুমির। দৈর্ঘ্যে প্রায় ছয় মিটার ও ওজনে এক হাজার কেজি পর্যন্ত হতে পারা এই ভয়ংকর সরীসৃপদের উপস্থিতিকে ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন অনেকে, যা অলিম্পিক ইতিহাসে অন্যতম রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ ভেন্যুর তকমা এনে দিয়েছে।

গেমসের স্বাধীন অবকাঠামো ও সমন্বয় কর্তৃপক্ষের কমিশন করা এক কারিগরি মূল্যায়নের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফিটজরয় রিভার ফ্ল্যাটওয়াটার ফ্যাসিলিটি একটি স্বীকৃত রোয়িং সুবিধা এবং এটি ইতিমধ্যেই স্কুল রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপ, স্থানীয় রেগাটা ও জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তবে নিরাপত্তা, ন্যায্যতা এবং ব্রিসবেন থেকে প্রায় ছয়-সাত ঘণ্টা দূরত্বের এই অঞ্চলের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ৫৪২ জন রোয়ারের স্বাক্ষরসংবলিত একটি প্রতিবাদলিপি কুইন্সল্যান্ড রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তাছাড়া প্রবল স্রোতের বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়িয়েছিল ক্রীড়াবিদদের।

এদিকে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন বলছে, সমস্ত শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ভেন্যুটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ব্রিসবেন ২০৩২-এর আয়োজকরা। ব্রিসবেন আয়োজক কমিটির সভাপতি অ্যান্ড্রু লিভরিজ গত বছর এক প্রতিক্রিয়ায় কুমিরের ভয় উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘সাগরে হাঙর রয়েছে এবং আমরা তো তবুও সার্ফিং করছি... এটি 'পারা যাবে না' নয়, 'পারা সম্ভব' এর মানসিকতা দয়া করে এখানকার মানসিকতা পরিবর্তন করুন।’ 

ওয়ার্ল্ড রোয়িং এবং প্যাডেল ওয়ার্ল্ডওয়াইডও এই কোর্সটিকে অনুমোদন দিয়েছে। ওয়ার্ল্ড রোয়িংয়ের প্রেসিডেন্ট জাঁ-ক্রিস্টোফ রোল্যান্ড বলেন, ‘ব্যাপক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আমরা এখন জানি যে ফিটজ্রয় নদী অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক রোয়িংয়ের প্রয়োজনীয়তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে গেমসের সময় ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিস্থিতি প্রদান করতে সক্ষম।’ 

এছাড়া প্যাডেল ওয়ার্ল্ডওয়াইডের প্রেসিডেন্ট থমাস কোনেৎসকো জানিয়েছেন, ‘সম্পন্ন কারিগরি কাজের মান এবং গভীরতা খেলার মাঠ সম্পর্কে আমাদের বোঝার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে এবং আমাদের ও আমাদের ক্রীড়াবিদদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে যে এই কোর্সটি ক্যানো স্প্রিন্ট অ্যাথলেটদের জন্য ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পারে।’ 

এদিকে, অলিম্পিকের মতো বৈশ্বিক আসরে অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা এবং আকস্মিক কুমির দেখার পরিস্থিতিতে জরুরি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন আয়োজকরা। ব্রিসবেন ২০৩২-এর এক মুখপাত্র দ্য টেলিগ্রাফকে নিশ্চিত করেছেন যে, সমস্ত ভবিষ্যৎ নকশা এবং অপারেশনাল কাজ এখন রকহ্যাম্পটনের ওপর ফোকাস করেই পরিচালিত হবে, যাতে বিশ্বমঞ্চের এই রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ লড়াই সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত