ক্যামিলার সঙ্গে দেখা, তারপর বদলে যায় ‘কিলার মিলারের’ জীবন

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন ‘কিলার’ খ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকার হার্ডহিটার ব্যাটার ডেভিড মিলার। বয়স হয়ে গেছে ৩৬ বছর। চলতি বিশ্বকাপে প্রোটিয়া দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের একজন তিনি। তবে বয়স বাড়লেও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমেনি। বরং ব্যক্তিগত জীবনের বড় পরিবর্তন তাকে আরও পরিণত করেছে।

২০২৪ সালের ১০ মার্চ ক্যামিলা হ্যারিসকে বিয়ে করার পর থেকেই মিলারের জীবনে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়। ক্যামিলার উপস্থিতি তাকে মানসিকভাবে আরও স্থির করেছে। ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে তার যোগাযোগ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিবিড়। মিলার বলেছেন, ‘একা থাকার দিনগুলো আমি দারুণ উপভোগ করেছি, কিন্তু সেটা ছিল খুব স্বার্থপর জীবন। এখন আমি জীবনের অন্য এক অধ্যায় পার করছি।’

বিবাহিত জীবনের উপলব্ধি নিয়ে এই মারকুটে ব্যাটার বলেন, ‘এখন বুঝতে পারি, ক্রিকেটের বাইরেও একটা বিশাল জগৎ আছে। হারলে আগে মনে হতো সব শেষ। এখন বুঝি এটা স্রেফ একটা খেলা মাত্র। খারাপ লাগে ঠিকই, কিন্তু দিন শেষে সব ঠিক হয়ে যায়। এছাড়া বেঞ্জি (ছেলে বেঞ্জামিন ডেভিড মিলার) আমার অনেক বড় অনুপ্রেরণা। বাবা ও স্বামী হিসেবে জীবনটা আমি দারুণ উপভোগ করছি।’

২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি ছেলে বেঞ্জামিন ডেভিড মিলারের জন্ম হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে পেয়ে বদলে যাওয়া মিলারের মানসিক দৃঢ়তার প্রতিফলন দেখা গেছে ভারতের বিপক্ষে সুপার এইট ম্যাচে। কঠিন পরিস্থিতিতে নেমে মিলার ৩৫ বলে ৬৩ রান করে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। তার ইনিংসেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা পায় জয়ের দেখা।

তবে সব স্মৃতি সুখের নয়। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের কাছে নাটকীয় হারের পর মাঠেই ভেঙে পড়েছিলেন মিলার। তাকে অনেকটা সময় কাঁদতে দেখা যায়। সেই কঠিন মুহূর্তে স্ত্রী ক্যামিলার সান্ত্বনাই তাকে সামলে উঠতে সাহায্য করে। সেই স্মৃতিচারণ করে মিলার বলেন, ‘ওটা খুব কঠিন মুহূর্ত ছিল। কিন্তু ও পাশে ছিল। স্ত্রীকে আপনি অনেক কথা বলতে পারেন, যা সতীর্থকে বলা যায় না।’

ভারতের মাটিতে ক্রিকেট খেলা মিলারের জন্য নতুন নয়। ক্যারিয়ারের একটা বড় সময় তিনি ভারতে কাটিয়েছেন। সময়ের হিসেবে সেটা প্রায় সাড়ে তিন বছর। দেশটির বৈচিত্র্য ও মানুষের আতিথেয়তা তাকে বারবার মুগ্ধ করে। অবসর-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়েও ভাবছেন মিলার। অর্থ নয়, জীবনের উদ্দেশ্যই তার কাছে বড়। ভবিষ্যতে তরুণ ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করতে চান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত