মানিকগঞ্জ-১ (শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির বলেছেন, কাশাদহ খালকে আগামী দুই বছরের মধ্যে একটি আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দেশের কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের ইতিহাসে এই খালের গুরুত্ব অপরিসীম। নানা প্রতিকূলতায় দীর্ঘদিন খালটির ঐতিহ্য আড়ালে থাকলেও এখন তা পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিবালয় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আওতাধীন বোরো সেচ প্রকল্পের খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল নাঈম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদার, প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, পিআইও তাহমিনা আক্তার চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সন্ত্যন কান্ত পন্ডিত ভজন, যুবদল সদস্য সচিব কাজী মুস্তাক হোসেন দিপু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি রহমত আলী লাভলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিনসহ সমিতির নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে জিন্নাহ কবির বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কাশাদহ খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নে আবারও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গঠন এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
জিন্নাহ কবির আরো বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে খাল খনন ও কৃষি উন্নয়ন অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ভবিষ্যতে কাশাদহ খাল পুনঃখনন করে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে রাস্তা ও পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে এটিকে পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের ১ ডিসেম্বর সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন হিসেবে প্রথম শিবালয়ের কাশাদহ খাল খনন কার্যক্রম শুরু করেন। দেশব্যাপী নেওয়া ওই প্রকল্পগুলোর মধ্যে কাশাদহ বিশেষ পরিচিতি পায়। প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শনে তিনি এখানে তিনবার আসেন। আনুলিয়া, বোয়ালী, অন্বয়পুর, কোখাদী, আরপাড়া ও শিবালয়সহ আশপাশের চকে পানি সরবরাহের মাধ্যমে বোরো আবাদ নিশ্চিত করতে বহু আগে ‘কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি’ গঠন করা হয়। প্রায় এক হাজার সদস্যের এই সমিতির মাধ্যমে প্রতি বছর সেচ সুবিধায় এলাকায় বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন হচ্ছে। তবে বর্তমানে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ কাশাদহ খালের পশ্চিম প্রান্তে, আরিচা ঘাটের দক্ষিণে ছোট আনুলিয়া গ্রামের নিকট যমুনা নদীতে বড় চর জেগে ওঠায় পানি উত্তোলনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
