কোনো ব্যান্ড দলের জন্য ঘটনাটা বিরলই বলা চলে। আর এই বিরল ঘটনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশের বহুল জনপ্রিয় গানের দল ওয়ারফেজ। প্রথম বাংলাদেশি রক ব্যান্ড হিসেবে একুশে পদক পেয়েছে দলটি। দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা নিয়ে রিকশায় যার যার গন্তব্যে ফিরেছেন ব্যান্ডটির সংগীতশিল্পীরা। রিকশায় বসে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ব্যান্ডটির গিটারশিল্পী ইব্রাহিম আহমেদ কমল। জমকালো এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদকটি গ্রহণ করেন ওয়ারফেজের দলনেতা ও ড্রামার শেখ মনিরুল আলম টিপু। এরপর সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়ে তিনি লেখেন, আজ ওয়ারফেজের জন্য এক গর্বিত ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সংগীতে আমাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক অর্জন করতে পেরে আমরা গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ। এই সম্মান শুধু ব্যান্ডের নয়, এই দীর্ঘ যাত্রায় পাশে থাকা প্রতিটি শ্রোতা, সমর্থক এবং শুভাকাক্সক্ষীরও। বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ব্যান্ডটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই পদক তারা তাদের ভক্তদের উৎসর্গ করছেন। টিপু তার পোস্টে আরও যুক্ত করেন, ভক্তদের বিশ্বাসই সবসময় আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই একুশে পদক আপনাদেরই।
আর এই একুশে পদক প্রাপ্তি আরও দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ওয়ারফেজ। সত্য-মিথ্যার যাচাই-বাছাই না করে কেবল ঘোষণা শুনেই বিভিন্ন দেশ থেকে পদক নিতে ছুটে আসেন দলটির পুরনো সদস্যরাও। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাবনা করিম আর মাসুক রহমান, কানাডা থেকে সঞ্জয়, কামরান রহমান আর চীন থেকে ছুটে এসেছিলেন অনি হাসান। বাকি সদস্যদেরও চেষ্টার কমতি ছিল না। কিন্তু অনেক কিছুর পরও তারা উপস্থিত হতে পারেননি ওয়ারফেজদের এই বিজয়কাব্য রচনার মুহূর্তে। তবু শেষমেশ যাদের একসঙ্গে দেখা গেছে, তাদের দলটাও যে ছোটখাটো ছিল না সে কথা স্বীকার করতেই হয়। ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও লিড গিটারিস্ট ইব্রাহিম আহমেদ কমল বলেন, গানে গানে চার দশক পেরিয়ে আজকের এই দিনটি পর্যন্ত আসতে পারা পুরোটাই কেন যেন স্বপ্নের মতো। মনে পর্দায় ভাসছে কৈশোরের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসার সেই ক্ষণ। যখন আমরা কয়েকজন গানপাগল ছেলে নতুন কিছু করার স্বপ্নে বিভোর।
গানের ভুবনে দেশীয় ব্যান্ডগুলোর আধিপত্য শুরু হয় মূলত নব্বই দশকে। এই উত্থান ছিল চমকে দেওয়ার মতো। অথচ এর আগে ব্যান্ড সদস্যদের সংগীতচর্চাকে অপসংস্কৃতি বলে আখ্যা দিয়েছেন অনেকে। সেখান থেকে লড়াই অব্যাহত রেখে অভিনব সংগীতায়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রোতার চিন্তাধারা বদলে দেওয়া সহজ নয়। ব্যান্ড আন্দোলনের সেই সময়ে ওয়ারফেজ সদস্যরাও ছিলেন সামনের সারিতে। অভিনব আয়োজনের মধ্য দিয়ে সব বাধা ডিঙিয়ে চলার পথকে করেছেন মসৃণ। তাই তো একুশে পদক পাওয়ার কথা শুনেই ওয়ারফেজ ব্যান্ডের দলনেতা ও ড্রামার শেখ মনিরুল আলম টিপু ঘোষণা দেন, এই অর্জন শুধু ওয়ারফেজ নয়, দেশের সব ব্যান্ডের।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেকবার বদলেছে ওয়ারফেজ লাইনআপ। কিন্তু যারা ব্যান্ডকে সময় দিতে পারছেন না, তারা যে ওয়ারফেজের সঙ্গে সবরকম সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেছেন তা নয়। বরং যখনই যিনি সুযোগ পান, ব্যান্ডের কোনো না কোনো আয়োজনে অংশ নিয়ে থাকেন।
