শিশুর মানসিক বুদ্ধি বিকাশ

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

শিশুর শারীরিক মানসিক নৈতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ কতটা সমৃদ্ধ হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করে মা-বাবা কীভাবে লালন করছেন তার ওপরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা না জেনে শিশুর সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করেন, যা সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শিশুর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা যায়, আর কী আচরণ করা যায় না তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। লিখেছেন শ্যামল আতিক

আপনার শিশু যে ইউনিক বা অনন্য তা তাকে বলুন। অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা যে তাকে অন্য কারও মতো সৃষ্টি করেনি তা শিশুকে বলুন। শিশুকে তার গুণগুলো খুঁজে বের করতে বলুন। প্রয়োজনে তাকে সহযোগিতা করুন, তার গুণগুলোকে ধরিয়ে দিন। শিশুর মধ্যে যে গুনগুলো আছে, তাকে তা বারবার বলুন। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রতিদিন তাকে কয়েকবার বলুন আমি সাহসী, আমি শক্তিশালী, আমি সুস্থ, আমি পারি। ও ছোট, পারবে না এ ধরনের কথা বলে শিশুর যোগ্যতা ও সামর্থ্যকে অবমূল্যায়ন করবেন না।

কখনো নেতিবাচক কথা বলবেন না। গর্দভ, অপদার্থ, আহাম্মক ইত্যাদি বলে গালি দেবেন না। পিতা-মাতার নেতিবাচক কথা শিশুর মনোজগতে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়। অন্যের সামনে শিশুকে অপমান করবেন না। আপনার শিশুরও যে আত্ম-সম্মানবোধ আছে, সেটা ভুলে যাবেন না।  শিশুর দুর্বলতা বা অক্ষমতা নিয়ে উপহাস করবেন না। খোঁচা দিয়ে কথা বলবেন না। এর ফলে শিশু হীনম্মন্যতায় ভুগতে পারে।

শিশুর সামনে সমস্যা নিয়ে হা-হুতাশ না করে বরং সমাধান নিয়ে কথা বলুন। তাকে বুঝতে দিন সমস্যা যত কঠিন হোক, তা সমাধান করার যোগ্যতা সৃষ্টিকর্তা মানুষকে দিয়েছেন।

যখন কোনো নির্দেশনা দেবেন, চেষ্টা করবেন কিছুটা হলেও স্বাধীনতা দিতে। একাধিক বিষয় থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে, শিশুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে। শিশু সম্মানিত বোধ করে। শিশুকে তার বংশপরম্পরা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিন, পূর্বপুরুষদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে জানান। এটি শিশুর ইতিবাচক আত্মধারণাকে সমৃদ্ধ করে।

শিশুকে সম্মান করলে সে নিজেকে সম্মানিত মনে করে, তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও আত্ম-মর্যাদাবোধ জাগ্রত হয়। শিশু কোনো ভালো কাজ করলে প্রশংসা করবেন তৎক্ষণাৎ, সুনির্দিষ্ট গুণের কথা উল্লেখ করে। প্রতিদিন শিশুকে কমপক্ষে তিনটি ভালো বিষয় বা গুনের কথা উল্লেখ করে প্রশংসা করবেন। তবে প্রশংসা যেন অতিরঞ্জিত না হয় সেটাও খেয়াল রাখবেন। শিশুকে স্মার্ট, ট্যালেন্ট বা হিরো ইত্যাদি বলে প্রশংসা করবেন না। এ ধরনের তকমা ক্ষতিকর।

যেকোনো  অর্জন বা সাফল্যে সরাসরি প্রশংসা না করে, বরং প্রয়াসকে প্রশংসা করুন। গণিতে ভালো ফল অর্জন করলে তাকে বলুন, পরিশ্রম করেছ বলেই ভালো ফল অর্জন করেছ। শিশু কী দিয়ে খেলবে, কোন পোশাক পরবে এই সিদ্ধান্তগুলো শিশুকে নিতে দিন। এতে শিশু সিদ্ধান্ত ক্ষমতা বাড়ে, আত্মনির্ভরশীল হয়ে বেড়ে ওঠে। বুদ্ধির স্তর বুঝে শিশুর কাছে মাঝেমধ্যে নানা বিষয়ে মতামত চাইবে। এতে শিশু তার মস্তিষ্ককে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত