ধৈর্য রোজায় পূর্ণতা আনে

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৫ এএম

রমজান মানুষকে থামতে শেখায়, ভাবতে শেখায়, যাচাই করতে শেখায়। দৈনন্দিন ব্যস্ততায় যে হৃদয় কঠিন হয়ে যায়, রোজা তাকে কোমল করে। যে মন অস্থিরতায় ছুটে চলে, রোজা তাকে স্থির করে। ইবাদতের ধারাবাহিকতা, গুনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা, কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সাধনা, সব মিলিয়ে রমজান এক অনন্য প্রশিক্ষণপর্ব। দেখতে দেখতে পবিত্র রমজানের দশ দিন চলে গেছে, আজ এগারোতম রোজা। আজ থেকে শুরু রমজানের মধ্যভাগ, এই ভাগ মাগফিরাতের। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য। ধৈর্য রোজায় পূর্ণতা আনে। আর রমজানের ভেতরে যে ধৈর্যের বীজ বপন হয়, সেটি যদি সারা বছর লালন করা যায়, তবেই রমজানের শিক্ষা পূর্ণতা পায়।

ধৈর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ, গুণটি পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যায় রোজাদারের মধ্যে। আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হয়। মসজিদে আসতে হয়। রোজা রাখতে হয়। জাকাত দিতে হয়। এই ধরনের ইবাদত করতে গিয়ে মানুষের শারীরিক প্রস্তুতিসহ অনেক প্রস্তুতি লাগে। ইবাদত করার জন্য একটা ধৈর্য লাগে, সবর লাগে।

এছাড়া শরিয়ত অনেক কিছু থেকেই মুসলমানদের নিষেধ করেছে। এসব থেকে বাঁচতে হলে কষ্ট হয়। তো কষ্ট হলেও ওই নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে বিরত থাকা। এটা ধৈর্য ও সবরের পরিচয়। আবার মানুষের জীবনে কষ্ট-ক্লেশ আসে। কত রকমের আপদ-বিপদ আসে। জুলুম-নির্যাতন আসে। তখন তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এ কঠিন সময়েও শরিয়তের আওতাধীন থেকে ধৈর্য ও সবরের পরিচয় দেওয়া উচিত।

রোজাদার আল্লাহর বিধান পালন করে রোজা রাখছে। এক্ষেত্রে সে ইবাদতের ওপর সবর করল। রোজা রাখতে গিয়ে তাকে অনেক ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে হয়। এ জন্য সবরের দ্বিতীয় প্রকারও তার মধ্যে পাওয়া গেছে। রোজা রাখতে গিয়ে দিনের মধ্যভাগ ও শেষভাগের দিকে তার কষ্ট-ক্লেশ অনেক হয়। তাহলে সবরের তৃতীয় প্রকারও তার কাছে পাওয়া গেল।

মোটকথা, সবরের গুণটি রোজাদারের মধ্যে উপস্থিত থাকে। এটা যেকোনো রোজাদারের মধ্যেই থাকে। যদি সে নিয়ত করে রোজা রাখে, তাহলে এসব গুণ তার মধ্যে একসঙ্গে পাওয়া যাবে। এই সবর মানবজীবনের জন্য, বিশেষত একজন মুসলমানের জন্য অপরিহার্য বিষয়, যা তাকে তার জীবনে অনেক গুনাহ ও সমস্যা থেকে রক্ষা করে। সে অযাচিত ক্রোধান্বিত হয়ে নিজের ক্ষতি টেনে আনা থেকে রক্ষা পায়।

সবরের পুরো শিক্ষাই রয়েছে রোজার মধ্যে। সবরের গুণটি যদি আমরা রোজার বাইরের এগারো মাস ধারণ করতে পারি, তাহলে একজন সত্যিকারের মুসলিম হিসাবে আমাদের পথচলা আরও সহজ ও সফল হবে ইনশাআল্লাহ।

সবর থেকেই সংযম, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার গুণ অর্জিত হয়। রমজানে নেক আমলের পাশাপাশি অন্যের সুখে সুখী হওয়া এবং অন্যের দুঃখে দুঃখী হওয়ার তাগিদ দেয়। তাছাড়া সহযোগিতা ও সহমর্মিতা একটি স্বতন্ত্র নেক আমল। রমজানে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য অন্যান্য ইবাদতের মতোই অনেকাংশে বেড়ে যায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন।’ (সুরা মায়েদা ২)

আয়াতে বর্ণিত সৎকাজ ও পাপকাজের সংজ্ঞায় হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বির বা সৎকাজ হচ্ছে সচ্চরিত্রতা। আর পাপ হচ্ছে, যা তোমার অন্তরে উদিত হয় অথচ তুমি চাও না যে, মানুষ সেটা জানুক। (সহিহ মুসলিম ২৫৫৩)

অন্য হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বির বা সৎকাজ হচ্ছে, যাতে অন্তর শান্ত হয়, চিত্তে প্রশান্তি লাভ হয়। আর পাপ হচ্ছে, যাতে অন্তর শান্ত হয় না এবং চিত্তেও প্রশান্তি লাভ হয় না। (মুসনাদে আহমাদ ৪/১৯৪) মহান আল্লাহ আমাদের জীবনের রোজার অন্যতম শিক্ষা ধৈর্যকে প্রতিফলিত করুন। আমিন।

লেখক : পরিচালক, মারকাযুত তারবিয়াহ বাংলাদেশ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত