বগুড়ায় ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু, তদন্ত কমিটি

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে সামিউল হাসান শুভ নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

সদর থানা পুলিশ বলছে, মারা যাওয়া ব্যাংক কর্মকর্তার পরিবার থেকেও এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিহত সামিউল হাসান শুভ (৩৩) জেলার কাহালু উপজেলার বাসিন্দা এবং শহরে বসবাস করতেন। জনতা ব্যাংক বগুড়ার দুপচাঁচিয়া শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা ছিলেন। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে স্বজনরা এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছিলেন।

জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা যায়, বগুড়ায় মোট ১৯টি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। এরমধ্যে সর্বশেষ মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র অনুমোদন পেয়েছে। প্রতিটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ম অনুযায়ী পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তা শুভ মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ও স্বজনরা জানান, কিছুদিন আগে হঠাৎ ছিনতাইকারীর কবলে পরে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন শুভ। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন কয়েক মাস ধরে। সর্বশেষ চলতি মাসের শুরুতে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বাপ্পা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতির কারণে, তাকে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শহরের সাবগ্রাম এলাকায় মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন শুভ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শুভ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কিন্তু তার আকষ্মিক মৃত্যুর খবরে হতবাক স্বজনরা জানান, তারা হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, শুভ্র শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে শারীরিক নির্যাতনে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি করছেন তারা।

বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার অমিত সাহা বলেন, তাদের সিফটিং ডিউটি। যিনি তার আগে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি জানিয়েছেন যে মৃত অবস্থায় শুভকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

এদিকে শুভর পরিবারের লোকজন এটিকে হত্যাকান্ড বলে ধারণা করছেন। শুভর বন্ধু সৈকত ও শাওন বলেন, আমাদের ধারণা শুভকে হত্যা করা হয়েছে। এবিষয়ে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে নেওয়া ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ কিছুটা দেখা হয়েছে, আরো বিস্তারিত দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক জিললুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে পরিবার অভিযোগ করলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখনও পরিবারের পক্ষথেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এঘটনার পরের দিন আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত চলছে।

বগুড়া সদর থানার তদন্ত ইন্সপেক্টর মাহফুজ আলম জানান, ব্যাংক কর্মকর্তা শুভ মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রিপোর্ট এখনও আসেনি। রিপোর্ট হাতে আসলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষথেকে কোন অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ করলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক পলিন হাসান জানান, শুভকে রুমে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে সে মারা যায়। আমাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি ছিল না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত