ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা চেয়ে জাবির নারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের ব্যর্থতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন একদল নারী শিক্ষার্থী। বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিকেল ৩টার দিকে মিছিলটি হল এলাকা থেকে শুরু হয়। ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম তারিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা হতাশাজনক। তারা প্রশাসনের গাফিলতি ও উদাসীনতার সমালোচনা করেন।

এর আগে শনিবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারিকুলের একাডেমিক সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এক নারী শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসসংলগ্ন একটি বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী, যিনি অভিযুক্তের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন বলে জানা গেছে, বুধবার আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।

অর্থনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজীহা বিনতে শামসুদ্দিন বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ওপর অমানবিক নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর ঘটনায় প্রশাসনিক উদাসীনতা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই উদাসীনতা আর সহ্য করব না। এমন ঢিলেঢালা মনোভাবই ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের অনিরাপত্তার জন্য দায়ী।

তিনি আরও বলেন, তারিকুলের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব আমলাতান্ত্রিক ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এমন ঘটনা ঘটে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করতে হবে এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫২ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা নূর বলেন, আজকের এই মিছিল প্রশাসনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার প্রতিবাদে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বর্তমান শিক্ষার্থী সাবেক এক শিক্ষার্থীর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের বর্ণনা এতটাই ভয়াবহ যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন, অথচ প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

তিনি বলেন, পাঁচ দিন পর কেবল সাময়িকভাবে একাডেমিক সনদ স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসনের উচিত ছিল শুরু থেকেই প্রয়োজনীয় সব তথ্য পুলিশকে দিয়ে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত