ইলিশের অভয়াশ্রমে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা, জেলেপাড়ায় দুশ্চিন্তা

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ১২:১৬ এএম

নদীর ঘাটে সারি সারি নৌকা নোঙর করা। জাল গুটিয়ে কাদামাটির চরে বসে কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ বা নীরবে তাকিয়ে আছেন নদীর দিকে। ইলিশ রক্ষায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর এমনই দৃশ্য এখন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর তীরজুড়ে। গতকাল রবিবার থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৯০ কিলোমিটার নদী এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞায় জেলার লক্ষাধিক জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ভোলা খাল ও ধনিয়ার তুলাতুলি মাছঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ নৌকা তীরে তুলে রাখা হয়েছে। জেলেরা জাল শুকাচ্ছেন, কেউ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত জাল মেরামত করছেন। নদীতে মাছ ধরার কোনো প্রস্তুতি নেই। শিবপুর ভোলা খালের জেলে মো. রায়হান (৩৫) বলেন, ‘নদীতে মাছ কম পেয়েছি এ বছর। আগের দেনা শোধ করতে পারিনি। এখন আবার দুই মাস কাজ বন্ধ। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই দুই মাস ভোলার মেঘনা নদীর চর ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত ৯০ কিলোমিটার এবং তেঁতুলিয়া নদীর চর ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত ১০০কিলোমিটারসহ মোট ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশের অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, বরাদ্দকৃত চাল প্রথম সপ্তাহেই বিতরণ করা হবে। এছাড়া ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৩ হাজার ৬০০ জেলেকে অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। জেলেদের এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখার দাবির বিষয়ে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে, আশা করি শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত