রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করবে সরকার

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৮ এএম

রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলামকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. শামসুল হক বলেছেন, ‘ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে ধাপে ধাপে ইলেকট্রিক বাস চালুর মাধ্যমে দূষণ কমানো এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহনের অবস্থা মন্ত্রীর কাছে থেকে জেনেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে মহিলা বাস সার্ভিস চালু করার জন্য মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ রমজানের ঈদের আগেই শেষ করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান আতিকুর রহমান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ড. মো. শামসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে রাজধানীতে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করতে চায় সরকার।’ তিনি বলেন, ‘রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় দ্রুত দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে ১৮০ দিনের একটি কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। প্রাথমিকভাবে এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হবে গণপরিবহনকে সুশৃঙ্খল করা এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ও আবেদন সৃষ্টিকারী বাসসেবা চালু করা। নারীদের জন্য বিশেষায়িত বাস, যেখানে নারীচালক নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে, তা দ্রুত চালুর বিষয়ে আগ্রহ দেখানো হয়েছে।’

এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘১৮০ দিনের পরিকল্পনায় বিদ্যুৎচালিত বাস দিয়ে গণপরিবহন ব্যবস্থার রূপান্তর শুরু করার কথাও গুরুত্ব পেয়েছে। ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে ধাপে ধাপে ইলেকট্রিক বাস চালুর মাধ্যমে দূষণ কমানো এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্বল্পসময়ে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’ তিনি জানান, বাসব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে জোনভিত্তিক পাইলট কার্যক্রম চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কম বিনিয়োগে বেশি মানুষের কভারেজ নিশ্চিত করা এবং মেট্রোরেলের পরিপূরক হিসেবে অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত এলাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণে লাইট রেল ও মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রায় আট-নয় মাস আগে তারেক রহমান নিজে থেকেই গণপরিবহন খাত সংস্কারের বিষয়ে আগ্রহ দেখান। তিনি দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থানকালে সেখানকার গণপরিবহন ব্যবস্থা কাছ থেকে দেখেছেন এবং বাংলাদেশে জনগণবান্ধব একটি কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছেন। বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়টি তাকে ভাবাচ্ছে।

শামসুল হক আরও বলেন, ‘ঢাকায় মেট্রোরেল চালু হলেও পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তের অনেক ঘিঞ্জি ও অপরিকল্পিত এলাকায় এখনো গণপরিবহনের পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। বাসাবো, গোড়ান, মাদারটেক ও পুরান ঢাকার মতো এলাকায় বিপুল জনগোষ্ঠী বাস করলেও তারা অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত বাসসুবিধাও পায় না। তাই মেট্রোরেলের পাশাপাশি লাইট রেল, মনোরেল, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) ও সাধারণ বাস সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেলের যে ছয়টি রুটের রূপরেখা রয়েছে, তা প্রধান সড়ক ধরে বিস্তৃত। তবে মেট্রোর বাইরে থাকা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিপূরক ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমীক্ষা করে প্রস্তাবনা দেওয়ার কথা হয়েছে, যাতে চলতি বছরেই কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া যায়।’

এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ঢাকার ওপর চাপ কমাতে রেলভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে নগর বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। দ্রুতগতির ট্রেন চালু করা গেলে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে যাতায়াত সহজ হবে এবং রাজধানীর ওপর চাপ কমবে এমন ভাবনাও রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত