ইডেনে প্রোটিয়া বনাম কিউই দ্বৈরথ

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৯ এএম

ইডেনে সঞ্জু স্যামসনের মহাকাব্যিক ইনিংসের ঘোর এখনো কাটেনি অনেকের। তার আগেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ আরেকটা মহাকাব্যিক ইনিংসের অপেক্ষায় ৬৫ হাজার দর্শক। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড, এই আসরের অন্যতম সেরা দুই দল মুখোমুখি হবে ফাইনালে জায়গা করে নিতে। উপমহাদেশের কন্ডিশন দুই দলই যে দারুণ রপ্ত করেছে তার প্রমাণ গত দুই বছরে এই দুই দলের ভারতে টেস্ট সিরিজ জয়।

দুই দলেরই অন্যতম অস্ত্র বামহাতি স্পিন। নিউজিল্যান্ডের সবশেষ দুই ম্যাচে সেরা বোলার রাচিন রবীন্দ্র, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিয়েছেন ৪ উইকেট আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩। দক্ষিণ আফ্রিকারও কেশব মহারাজ ভারতের বিপক্ষে নিয়েছেন ৩ উইকেট, দলে আছেন জর্জ লিন্ডেও। একদিকে মিচেল স্যান্টনার ও রাচিন, অন্যদিকে কেশব ও লিন্ডে। ইডেনে দুই দলই চাইবে প্রতিপক্ষকে স্পিনের ফাঁসে আটকাতে।

পেস আক্রমণে দুই দলই সমানে সমানে। তবে আহমেদাবাদে ভারতকে হারিয়ে দেওয়ার ম্যাচে প্রোটিয়া অলরাউন্ডার মার্কো ইয়ানসেন ৪ উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দিয়েছিলেন ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপ। গ্রুপ পর্বেও কিউইদের বিপক্ষে ইয়ানসেন নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। ইডেনেও কি ইয়ানসেন পারবেন এ রকম কিছুই করে দেখাতে? শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কোল ম্যাককঞ্চি আবির্ভূত হয়েছিলেন ‘সারপ্রাইজ প্যাকেজ’ হিসেবে, সপ্তম উইকেটে স্যান্টনারের সঙ্গে তার ৪৭ বলে ৮৪ রানের ইনিংসটাই তো পাল্টে দিয়েছিল ম্যাচের রঙ। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্যটা নির্ধারিত হবে মূলত প্রোটিয়াদের লম্বা ব্যাটিং লাইন-আপকে কতটা কমে থামিয়ে রাখা যায় তার ওপরেই। কুইন্টন ডি কক, এইডেন মার্করাম, রায়ান রিকেলটনের পর  ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, ট্রিস্টান স্টাবস, ডেভিড মিলার... টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার জন্য এদের যে কোনো একজনের ব্যাটই যথেষ্ট। যেমনটা ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন মিলার। এই ‘হেভিওয়েট’ ব্যাটিংয়ের জবাব দিতে টিম সেইফার্ট কিংবা ফিন অ্যালেনের কাউকে টপ অর্ডারে একটা ঝড়ো ইনিংস খেলতেই হবে। তবে রান বাড়ানোর কাজটা করতে হবে গ্লেন ফিলিপস এবং ড্যারিল মিচেলকে। এই দুজনকেই বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে হবে।

গ্রুপ পর্বে আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা হয়েছিল মুখোমুখি। নিউজিল্যান্ডের ৭ উইকেটে করা ১৭৫ রান দক্ষিণ আফ্রিকা তাড়া করে জিতেছিল ৭ উইকেটে। আগে ব্যাট করলে রানটা যে দুইশর বেশি করতে হবে, সেটা নিঃসন্দেহে বুঝে গেছেন স্যান্টনাররা। ইডেনে আগের ম্যাচে দেখা গেছে শিশিরের প্রভাব। পরের দিকে বোলিংয়ের সময় বল হয়েছে ভারী, পিছলে হাত থেকেও ফসকেছে। টসটা তাই গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত