গত ফেব্রুয়ারিতে ৪৫ নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১০ জন। মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) মানবাধিকারসংক্রান্ত মাসিক পর্যালোচনায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত জানুয়ারির চেয়ে ফেব্রুয়ারিতে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে এইচআরএসএস।
গত মাসে ২৩৬ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৫ জন নারী, শিশু ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া ১০ জন নারী ও কন্যাশিশু দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ৩ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে ৯০ জন নারী ও কন্যাশিশু, তন্মধ্যে শিশু ১১ জন। ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতার ৩৪৬ ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে ১০ জন নিহত এবং ১ হাজার ৯৩৩ জনের বেশি বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছে।
এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিহতের সংখ্যা জানুয়ারি মাসের তুলনায় বেড়েছে। গত জানুয়ারির মাসে ১৫১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছিল ৮ এবং আহত হয়েছিল ১ হাজার ২৩৩ জন। ফেব্রুয়ারির ৩৪৬টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৯৫টি ঘটনায় ৮ জন নিহত ও আহত হয়েছে অন্তত ৫৯৯ জন। এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ১৯১টি সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ৯৯৮ জন আহত হয়েছে। আর ফেব্রুয়ারিতে ৩৪৬টি রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে নির্বাচনকেন্দ্রিক অন্তত ২৮৫টি সহিংসতার ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ১ হাজার ৫৫৫ জন আহত হয়েছে।
মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে গণপিটুনি ও মব সহিংসতায় সারা দেশে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগ্বিত-া, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে কমপক্ষে ৪২টি ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফেব্রুয়ারিতে ২৮টি হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ৬৩ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ৫৫ জন।
প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত হত্যা, থানা ও কারাগারে হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনে ১ এবং বন্দুকযুদ্ধে ১ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনসহ সারা দেশে কারাগারে কমপক্ষে ১২ জন (১০ জন কয়েদি ও ২ জন হাজতি) আসামি মারা গেছেন। এর মধ্যে ৪ জন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের এবং ৮ জন সাধারণ কয়েদি মারা গেছেন।
ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মাজারে হামলার ঘটনার উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কমপক্ষে ১৪টি হামলার ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়েছে। প্রতিবেদনে গত ৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমারের দিক থেকে আরাকান আর্মির ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত শিশু হুজাইফা আফনানের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
শ্রমিক নির্যাতনের বিষয়ে এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে ৩৩টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ১২৩ জন আহত হয়েছে।
এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং শ্রমিকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় ২০ জন শ্রমিক ও ১ জন গৃহপরিচারিকা মারা গেছে। শিশু নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে ৯৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।
