শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী জিকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর লিজ মুক্ত করে শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণের জন্য দেয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দরা। বুধবার(৪মার্চ) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সচেতন শেরপুরবাসী আয়োজিত এক মানববন্ধন সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে শহরের বিভিন্ন স্তরের সাঁতারু ও সাঁতার শিখতে আগ্রহী শিশুরা অংশ নেয়। পরে একই দাবিতে শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়া হয়। পাশাপাশি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছেও একটি আবেদন দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাঁতার প্রশিক্ষক সারোয়ার জাহান পপলিন, হিমন, রাজন, অ্যাথলেটিক্স কোচ আলমগীর হোসেন, সমাজসেবক ও ক্রীড়া সংগঠক জাকির হোসেন বাচ্চু, মো. শওকত হোসেন, সুমাইতাত জাহান স্মিতা, মহিলা ফুটবল রেফারি ভাবনা প্রমুখ।
জেলা প্রশাসককে দেয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২২ সাল থেকে শেরপুর সুইমিং একাডেমি ওই পুকুরে সাঁতার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ পর্যন্ত ৪ শতাধিক প্রি-প্রাইমারি শিক্ষার্থীকে সাতার শেখানো হয়েছে। শেরপুর সুইমিং একাডেমি সংশ্লিষ্টতায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুইমিং ফেডারেশনের অংশগ্রহণে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়াও জেলা ক্রীড়া অফিসের মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ পরিচালনায় শেরপুর সুইমিং একাডেমি সার্বিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দেয়।
উল্লেখ্য, শেরপুর সুইমিং একাডেমি থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘বিএমএ’ কোর্সের জন্য ৫ জন সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট ও ১৭ জন সৈনিককে সফলতার সাথে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়াও শেরপুর সুইমিং একাডেমি থেকে বিকেএসপিতে ২জন, ‘তোমাকে খুজছে বাংলাদেশ’ ট্যালেন্ট হান্ট-এ একজন শেরপুর জেলাকে গর্বিত করার সুযোগ পেয়েছে। অথচ বর্তমানে জিকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট শেরপুর সুইমিং একাডেমির ব্যবহৃত পুকুরটি ইজারা দেয়ার দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। মাছ চাষের জন্য ইজারা দেয়া হলে পুকুরে সাঁতার শেখার পরিবেশ থাকবেনা বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
