পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী আর্জেন্টিনা

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সিইএসএ। আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের মধ্যে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি আর্জেন্টিনা সরকারের শুভকামনা জানান।

তিনি বলেন, 'আমরা নতুন নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার জন্য প্রস্তুত।' এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুসংহত ও গভীর করার জন্য বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পারিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করেন। বিশেষ করে রপ্তানি ও আমদানির বৈচিত্র্যের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কৃষিতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করা, ফুটবল সম্পর্কিত বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্রীড়া সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া, এবং জ্বালানি বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খল অংশীদারিত্বে সহযোগিতার সুযোগ অন্বেষণ এবং বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি করা নিয়ে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আর্জেন্টিনা দূতাবাস পুনরায় চালু করা এবং বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশ দূতাবাস পুনরায় চালু করার বিষয়ে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সম্মতির প্রশংসা করেন।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বুয়েনস আইরেসে তার আবাসিক মিশন পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থীতার জন্য আর্জেন্টিনার মূল্যবান সমর্থনও কামনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে, বিশেষ করে ফুটবলের মাধ্যমে, অনন্য জনগণের সঙ্গে জনগণের বন্ধনের ওপর জোর দেন এবং যুব ও মহিলা ফুটবল উন্নয়নে কাঠামোগত সহযোগিতার প্রস্তাব করেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি এবং কাঠামোগত বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ আর্জেন্টিনা চেম্বার অফ কমার্সের মতো একটি প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, সিরামিক এবং পাটজাত পণ্য আমদানির প্রস্তাবও করেন।

বাংলাদেশ-আর্জেন্টিনা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে এবং সুনির্দিষ্ট ও ফলাফল-ভিত্তিক পদক্ষেপের মাধ্যমে অংশীদারিত্বকে গতিশীল ও বহুমাত্রিক স্তরে উন্নীত করার জন্য তাদের যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত