রঙে-রূপে ঈদের পোশাক

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৪ এএম

ঈদের আনন্দের বড় অংশ জুড়ে থাকে নতুন পোশাক। এবারের ঈদে মেয়েদের পোশাকে দেখা যাচ্ছে রঙ, নকশা আর কাপড়ের বৈচিত্র্যময় সমন্বয়। হালকা প্যাস্টেল শেড থেকে গাঢ় জমকালো রঙ সবকিছুর মধ্যেই যেন উৎসবের আমেজ। মসলিন, সিল্ক কিংবা কটনের মতো ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের পাশাপাশি আধুনিক কাট ও ফিউশন ডিজাইনও দেখা যাচ্ছে। লং কামিজ, আনারকলি, কুর্তি কিংবা ঘেরওয়ালা ফ্রক দেখা যাচ্ছে। এবারের ট্রেন্ডে আরাম ও নান্দনিকতা দুটোই গুরুত্ব পাচ্ছে। ঈদের দিনে বেড়াতে যাওয়ার জন্য যেমন থাকছে হালকা ও স্বস্তিদায়ক পোশাক, তেমনি সন্ধ্যার দাওয়াতে জমকালো পোশাক। সব মিলিয়ে মেয়েদের ঈদ পোশাক হয়ে উঠছে উৎসবের রঙিন প্রকাশ। লিখেছেন মোহসীনা লাইজু

বিশ্বরঙ

ঈদ আয়োজনে বিশ্বরঙ সবসময়ই অগ্রপথিক। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না। দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চলের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে প্রকৃতির বিভিন্ন ফর্মের সঙ্গে গ্রাফিক্যাল বাহারি নকশা ও বৈচিত্র্যময়তায় উপস্থাপন করেছে। বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানান, এবারের পোশাকের প্যাটার্নে এসেছে ভিন্নতা। রঙের ব্যবহারে অফহোয়াইট, সাদা, লাল, মেরুন, গোল্ডেনসহ মাটির রঙ, পাতার সবুজ, আকাশের নীল রঙের পরিমিতিবোধ লক্ষ করা যায় সব পোশাকে। পোশাকে ব্যবহার করা হয়েছে ধুপিয়ান সিল্ক, জয় সিল্ক, তসর সিল্ক, সফট সিল্ক, কাতান, ভেলভেট ছাড়াও বিভিন্ন রকম অর্নামেন্টেড কাপড়। কাজের মাধ্যম হিসাবে এসেছে এমব্রয়ডারি, জারদৌসী, কারচুপি, কাটওয়ার্ক, স্ক্রিনপ্রিন্টসহ মিশ্র মাধ্যমের  বিভিন্ন কৌশল।

ভারগো

ভারগোর ঈদ আয়োজন হলো প্রাণ ও সমসাময়িক ফ্যাশনের মেলবন্ধন। প্রতিটি ডিজাইনে রয়েছে নান্দনিকতা, প্রিমিয়াম মানের ফেব্রিক এবং সমসাময়িক সিলুয়েট, যা আরাম ও স্টাইলের নিখুঁত ভারসাম্য নিশ্চিত করবে। মেয়েদের জন্য রয়েছে জর্জেট ফেব্রিকের তৈরি নান্দনিক কারচুপি ও এমব্রয়ডারি ডিজাইনের সালোয়ার-কামিজ, টু-পিস সেট, কর্ড সেট, কুর্তি, টপস, টিউনিক, ওমেন্স প্যান্ট ও রিলাক্স প্যান্টের কালেকশন। এ ছাড়াও রয়েছে ট্রেন্ডি ডিজাইনের ডিজিটাল প্রিন্টেড ও ভিসকস ফেব্রিকের তৈরি কামিজের নতুন সংযোজন। ঈদ উৎসবে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা ও ক্যাজুয়াল লুকের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ডিজাইনের ক্যাজুয়াল টপস এবং টিউনিকসও রয়েছে।

সারা লাইফস্টাইল

ঈদ উপলক্ষে মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী থ্রি-পিস, সেলাইবিহীন লন ও কুর্তি নিয়ে এসেছে সারা লাইফস্টাইল। এবারের ঈদ পোশাকে পারিবারিক সেট, মা-মেয়ের মিল পোশাক এবং বিশেষ ‘অ্যাসপায়ার’ পাঞ্জাবি ধারা সংযোজন হয়েছে। ঈদ পোশাকের মূল ভাবনা এলিগ্যান্ট সিমপ্লিসিটি, ‘সৌম্য সরলতা’। হালকা সূচিকর্ম, পরিমিত নকশা, সূক্ষ্ম লেইসের কাজ এবং রুচিশীল রঙের ব্যবহারে পোশাকগুলো তৈরি হয়েছে। পোশাকে সংমিশ্রিত নকশায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ঐতিহ্যবাহী কাট, নকশা ও সূচিকর্মের সঙ্গে আধুনিক ঢঙের গড়নের সমন্বয় করা হয়েছে। আনারকলি ধাঁচের পাশখোলা সেট বা লম্বা রেশমি কুর্তিও রয়েছে।কোমল নীল, হালকা সবুজের মতো প্যাস্টেল রঙ; অফহোয়াইট, বেইজ ও ধূসর নিরপেক্ষ রঙ; মাটির আভাযুক্ত রঙ এবং সাদা, কালো, মেরুন ও গাঢ় নীলের মতো চিরায়ত রঙগুলো পোশাকে প্রাধান্য পেয়েছে।

লা-রিভ

এবারের ঈদে অ্যাম্বার হেজ, গ্লোবাল গ্রিডস, রেডিয়েন্ট ফারভর, আর্টফুল ডাইমেনশন, ট্রপিক্যাল ইমপ্রিন্ট, অবসকিওর ফ্লোরা, স্পাইস বোহেমিয়া, ডেকোরেটিফ, মেডিটেরিয়ান ইনস্পিরেশন, মিনিমালিজম ম্যাজিক নামে মোট ১০টি প্রিন্টস্টোরি নিয়ে কাজ করেছে লা রিভ। এই কালেকশনে প্রাধান্য পাবে টিল ও চেরি রেড রঙের ব্যবহার। নিউট্রাল প্যালেটে রয়েছে বাটারক্রিম, গোল্ডেন হেজ, সানক্লাউড মিরর এবং অ্যালজি ব্লুম যেগুলো পোশাকে এনে দেয় নরম, এলিগ্যান্ট ও ব্যালেন্সড লুক। রিচ প্যালেটে ব্যবহার করা হয়েছে ক্রাশড চেরি, টমেটো রেড, হিবিস্কাস রেড, স্কোয়াশড গ্রেপ পার্পল, প্রিকলি পিঙ্ক এবং টাইড ব্লু।  আর্থি প্যালেটে রয়েছে ওয়ালনাট ব্রাউন, সয়াসস এবং কম্বুচা অ্যাম্বার, যা পোশাকে যুক্ত করেছে প্রাকৃতিক উষ্ণতা ও পরিণত ভাব। শ্যাডো প্যালেটে রাখা হয়েছে জেডেড টিল, ন্যাচারাল টিল এবং মুডি ব্লু। এই গভীর ও শান্ত রঙগুলো পুরো কালেকশনের সঙ্গে একটি শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল কনট্রাস্ট তৈরি করেছে। ম্যাক্রো ফ্লোরাল প্রিন্ট, ফারসি সালোয়ার-কামিজ, মেডিটেরিয়ান অনুপ্রেরণা, ড্রপ শোল্ডার, ওয়াইড লেগ প্যান্টসহ এবারের ঈদের ট্রানজিশনাল ট্রেন্ড, যেখানে শীত ও গ্রীষ্মের স্টাইল একসঙ্গে মিশেছে এমনটা জানালেন লা রিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মন্নুজান নার্গিস

রঙ বাংলাদেশ

রঙে, বুননে, নকশায় আর গল্পে রাঙিয়ে তুলতেই রঙ বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে এবারের ঈদ আয়োজন। ফিলিস্তিনি সূচিশিল্পের ঐতিহ্যবাহী ভাষা তাতরেজের জ্যামিতিক মোটিফ ও সুতোয় আঁকা পরিচয়ের গল্প এখানে নতুনভাবে প্রাণ পেয়েছে। প্রতিটি নকশা যেন শিকড়ের কথা বলে, ইতিহাসের কথা বলে, আবার আধুনিক কাট ও রঙের ভেতর দিয়ে সমকালীন হয়ে ওঠে। ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক ব্লু মস্কের ডোম, নীল-সাদা টাইল ও স্থাপত্যের মহিমা এবারের সংগ্রহে এনে দিয়েছে প্রশান্ত সৌন্দর্য। প্রাচীন সভ্যতার আবহ নিয়ে এসেছে ইজিপশিয়ান ফ্লোরাল ডিজাইন লোটাস, প্যাপিরাস ও প্রতীকী ফুলেল মোটিফের সূক্ষ্ম অলংকরণে ফুটে উঠেছে রাজকীয় এক মাধুর্য। আধুনিক রঙের ছোঁয়ায় সেই প্রাচীন শিল্পধারা হয়ে উঠেছে ঈদের উপযোগী, সমকালীন ও মার্জিত।

পলিনেশিয়ান টাট্টু-এর দৃঢ় জ্যামিতিক রেখা ও উপজাতীয় প্রতীকের শক্তি এবারের কালেকশনে যোগ করেছে আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা। সাহস, পরিচয় ও প্রকৃতির শক্তিকে ধারণ করা এই নকশাগুলো আধুনিক ফ্যাশনে এনেছে এক স্বতন্ত্র উপস্থিতি। উজবেক সিরামিকসের উজ্জ্বল রঙ, সূক্ষ্ম জ্যামিতিক প্যাটার্ন ও হাতে আঁকা শিল্পভাবনা এই ঈদ আয়োজনকে দিয়েছে প্রাণবন্ত বৈচিত্র্য। ফিরোজা, নীল, সবুজ ও মাটিরঙা অলংকরণে যেন ফুটে উঠেছে উৎসবের রঙিন উচ্ছ্বাস। এ ছাড়াও থিম হিসেবে রয়েছে ডিলাইট ইন ডিজাইনের সূক্ষ্ম নকশা ও কারুকাজের সমন্বয়ে ম্যাচিং পোশাক। বিশ্ব ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন শেষ পর্যন্ত এসে মিশেছে বাংলার প্রকৃতি, আবহাওয়া ও আরামদায়ক কাপড়ের ভাবনায়। টেকসই বুনন, স্বস্তিদায়ক ফেব্রিক এবং ব্যবহারোপযোগী কাটিং সব মিলিয়ে রঙ বাংলাদেশ আবারও প্রমাণ করেছে, নান্দনিকতার পাশাপাশি আরামই তাদের প্রধান অঙ্গীকার। পরিবারের সবার কথা ভেবে তৈরি হয়েছে ম্যাচিং পোশাকের বিশেষ আয়োজন। মেয়েদের জন্য শাড়ি, থ্রি-পিস, সিঙ্গেল কামিজ, টিউনিক, টপস, ওড়না, রেডি ব্লাউজ ও আনস্টিচড সেট।

মডেল : এসকে তৃষ্ণা ও সাবরিনা ইসলাম

পোশাক : বিশ্বরঙ, লা-রিভ

ছবি : আবুল কালাম আজাদ

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত