এক মাস রোজা রাখার কারণেই বদলে যায় দৈনন্দিন জীবনযাপন। সেই সঙ্গে ত্বকে দেখা দেয় পানিশূন্যতা। যার ফলে ত্বক ও চুলে অনেকটা নিস্তেজ ভাব চলে আসে। অথচ সবাই চায় ঈদের দিনের প্রিয় পোশাকে তাকে সুন্দর লাগুক। একটু সচেতন হলেই ঈদের আগেই এসব সমস্যার সমাধান করতে পারি। এমনকি ঘরে বসেই সাধারণ স্কিন কেয়ার রুটিন ভালোভাবে মেনে চলা যায়।
ত্বক পরিষ্কার
ধুলাবালির এই শহরে বাইরে থেকে ফিলে সবার আগেই দরকার ডাবল ক্লিনজিং। ত্বক পরিষ্কারের প্রথম ধাপে ক্লিনজিং অয়েল বা লোশন দিয়ে সব মেকআপ ও সানস্ক্রিন পরিষ্কার করে নেওয়া। এরপর একটি ক্লিনজার বা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ফোমিং ফেসওয়াশ ও অন্য সব ধরনের ত্বকের জন্য জেল ক্লিনজার উপযুক্ত হবে।
এক্সফোলিয়েশন
এক্সফোলিয়েট না করলে ত্বকের ওপরে মৃত কোষ জমতে থাকে। এতে ত্বক নিস্তেজ ও রুক্ষ দেখায়। এক্সফোলিয়েশন ত্বকের মৃত কোষগুলো অপসারণের পাশাপাশি রোমকূপ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এতে ত্বক অনেক উজ্জ্বল ও সতেজ দেখায়। এক্সফোলিয়েশনের জন্য স্ক্রাব ব্যবহার করা। কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর আবার বেশ কোমলভাবে ত্বকের মৃত কোষ দূর করে। এ ছাড়াও ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েশন করা যেতে পারে। এ জন্য দরকার হবে কুসুম গরম পানি ও নরম ওয়াশক্লথ। কুসুম গরম পানিতে ওয়াশক্লথ প্রায় ১০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে নরম করে নিন। ত্বক খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে, ভেজা অবস্থায় নরম ওয়াশক্লথটি দিয়ে খুবই আলতো করে ঘষতে থাকুন। এভাবে কিছুক্ষণ করলেই ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কার হবে।
ফেস মাস্ক
মাস্ক ত্বক উজ্জ্বল করে। শিট মাস্ক, ক্লে মাস্ক ও সিøপিং মাস্ক, যার যেটা প্রয়োজন সেটা দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে পারেন। ক্লে মাস্ক ত্বক গভীর থেকে পরিষ্কার করে এবং ত্বকে তেলের ভারসাম্য বজায় রাখে। তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকের জন্য এটি বেশ ভালো কাজ করে। শিট মাস্ক বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। ত্বক ও ত্বকের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে যেকোনো শিট মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। সিøপিং মাস্ক আর নাইট ময়েশ্চারাইজারের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য সপ্তাহে অন্তত একবার ক্লে মাস্ক বা তিনবার শিট মাস্ক ও সিøপিং মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। ভিটামিট সি, নায়াসিনামাইড, মালবেরি বা বেয়ারবেরি এক্সট্রাক্ট, গ্রেপ সিড এক্সট্রাক্ট আছে, এমন উপাদানসমৃদ্ধ মাস্ক বাছাই করতে হবে।
সিরাম
খুব অল্প সময়ে ও সহজে ত্বক উজ্জ্বল করতে চাইলে সিরামের চেয়ে ভালো আর কিছু হতেই পারে না। এ জন্য এমন সিরাম ব্যবহার করতে হবে, যাতে অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট হিসেবে ব্রাইটেনিং এজেন্ট রয়েছে। যেমন ভিটামিন সি, ই, নায়াসিনামাইড, ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড, ফেরুলিক অ্যাসিড ইত্যাদি। এই উপাদানগুলো ত্বক উজ্জ্বল করতে অনেক বেশি কার্যকর।
ময়েশ্চারাইজার
ময়েশ্চারাইজার ছাড়া কোনোভাবে ত্বক স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হবে না। ত্বকের জন্য সব ঋতুতেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। যাদের ত্বক শুষ্ক, তারা দুবেলা এবং যাদের ত্বক তৈলাক্ত ও মিশ্র, তাদের রাতে খুব হালকা ধরনের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বকে আর্দ্রতা ঠিক থাকার পাশাপাশি ত্বক উজ্জ্বল হবে।
সানস্ক্রিন
এক কথায় বলা যায়, সানস্ক্রিন ছাড়া আমাদের ত্বক অচল। ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য যত যা-ই কিছু করা হোক না কেন, যদি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা না হয়; তাহলে সব পরিশ্রম মাঠে মারা যাবে। তাই সানস্ক্রিন না লাগিয়ে বাইরে তো দূরের কথা, ঘরেও থাকা যাবে না।