রাকাব ডিজিএমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫২ এএম

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) প্রধান কার্যালয়ের আইসিটি সিস্টেম বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ গ্রহণ, নারী কেলেঙ্কারি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিস থেকে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এক পত্রের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখের মধ্যে মতামত প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ব্যাংককর্মী মো. জহিরের দাখিলকৃত অভিযোগে বলা হয়েছে, আরিফুজ্জামান আইসিটি বিভাগে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন বিল পাসের বিপরীতে মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করে আসছেন। এর আগে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করায় তাকে শাস্তিস্বরূপ রংপুরে বদলি করা হয়েছিল। এ ছাড়া তিনি ভ্রমণ না করেই ভুয়া ভ্রমণ বিল তৈরি করে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে একাধিক নারীঘটিত অভিযোগ রয়েছে। কর্মস্থলে একাধিক নারী সহকর্মীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক এবং তাদের অনৈতিক সুবিধা প্রদানের অভিযোগও পত্রে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আরিফুজ্জামান ব্যাংকের ওই সময়কার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে কর্মকর্তাদের এসিআর টেম্পারিং করে অবৈধ পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এমনকি গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধর ছবি সংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার মতো দুঃসাহসও তিনি দেখিয়েছেন, যা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও সাধারণ কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক মো. সাদিউল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সুস্পষ্ট বক্তব্য ও মতামত প্রদান করতে হবে। এই তদন্তের মাধ্যমে ব্যাংকটির শৃঙ্খলা এবং ইমেজ রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে সাধারণ কর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আরিফুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দেব না। এটি আপনি নিজেই তদন্ত করে দেখেন। যারা এই শাখা থেকে কোনো আর্থিক বিষয়ে লাভবান হতে পারেনি তারাই এ অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোরতজা বলেন, ‘আইসিটি সিস্টেম বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত চলমান আছে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে করতে বলা হয়েছে। সেটির কাজ চলমান আছে। আমি যেহেতু এখানে নতুন এসেছি। তাই দেরি হয়েছে। তবে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেহেতু তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান আছে তাই তদন্তের স্বার্থে আমি তাকে বদলিও করেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত